নৈতিক শিক্ষার উত্তম সময় শৈশব-কৈশোর

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৪

নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়ার সর্বোত্তম সময় হচ্ছে শিশুকাল। এ সময়ে একটি শিশু যে শিক্ষা পায় তা তার সারা জীবনের পথ চলার পাথেয় হয়। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষাগুলো জীবনে চলার পথকে সহজ করে দিয়ে তাকে মর্যাদার আসনে বসায়। পাঁচ বছর বয়স থেকেই শিশুকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। আপনার আদরের শিশুটিকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব আপনার তথা আপনার পরিবারের সবারই। জীবনকে সুন্দর করে সাজাতে কয়েকটি নৈতিক শিক্ষা অতীব জরুরি। এইগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, সততা বা সত্যবাদিতা।

শিশুরা অনুসন্ধিত্সু। তাদের জানার আগ্রহ খুব বেশি। কী? কেন? কোথায়? এসব জিজ্ঞাসা সব সময় তাদের তাড়িত করে। আর এ কারণেই তাদের জন্য নিষিদ্ধ, বারণীয় বা অনুচিত কাজগুলোর প্রতি তাদের আগ্রহ বা আকর্ষণ বেশি। যেমন সুইচ অন করলে আলো বা বাতি জ্বলে বা ফ্যান ঘোরে। তাই বৈদ্যুতিক সুইচ বা সরঞ্জামের প্রতি অনেক শিশুরই আকর্ষণ বেশি। আবার অনেক শিশু খেলনা গাড়িটি দিয়ে না খেলে সেটাকে ভেঙে দেখতে চায় এটা কেন চলে, এটার ভেতরে কী আছে। অনেক শিশু পানি কিংবা আগুন দিয়ে খেলতে পছন্দ করে যা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বা একেবারেই নিষিদ্ধ; কিন্তু তথাপি এসব নিষিদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের প্রতি তাদের আগ্রহ বা আকর্ষণ বেশি। এসব বারণীয় বা নিষিদ্ধ কাজ করতে গেলেই তাদের বকাঝকা এমনকি মারধর পর্যন্ত খেতে হয়। তাদের কৃতকর্মের জন্য বকাঝকা ও মারধরের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে শিশুটি যে কৌশল অবলম্বন করে সেটাই হলো মিথ্যা বলা। আসলে মিথ্যা বলা তার মূল উদ্দেশ্য নয়, মূল উদ্দেশ্য হলো বকাঝকা ও মারধর থেকে নিজেকে রক্ষা করা। আর এ কারণে নিজেকে বাঁচাতে নিজের অজান্তেই সে মিথ্যা বলে থাকে। অপরাধ করলেও সে অপরাধ ঢাকতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকে।

এ ভাবে ছোট ছোট মিথ্যা বলতে বলতে মিথ্যা বলাটা একসময় তার স্বভাবে পরিণত হতে থাকে। এই মিথ্যা বলা বন্ধ না করলে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে এবং একসময় সে অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

তাই প্রতিটি শিশুকে সত্য বলতে শেখাতে হবে। এ জন্য তাকে কথায় কথায় মারধর করা যাবে না। সে কোনো অন্যায় বা ভুল করলে তার উপকারিতা এবং অপকারিতা তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। শিশুকে ভয়ভীতি দেখানো যাবে না। শিশুর সামনে মিথ্যা বলা যাবে না। কারণ শিশুর অনুকরণ, অনুসরণ ও স্মৃতিশক্তি যথেষ্ট প্রখর। শিশুর সামনে ফিসফিস করে বা কানে-মুখে কথা বললে তার মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হবে। সে কূটবুদ্ধি, ষড়যন্ত্র এবং লুকিয়ে কাজ করা শিখতে থাকবে। তাই বড়দের ঐ কাজটি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মিথ্যাচার শিখতে পারে—এমন কোনো গল্প শিশুকে শোনানো যাবে না। তাদেরকে সত্যাচারের গল্প শোনাতে হবে। শিশুকে সত্য কথা বলার উপকারিতা ও মূল্যবোধ বুঝাতে হবে। সত্যবাদিতার সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের কথা গল্পের ছলে তাকে বোঝাতে হবে।

শিশুকে উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী করে গড়ে তুলতে নৈতিকতার আরো অনেক বিষয় বা দিক রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হবে।

শিশু-কিশোরদের নৈতিক অবক্ষয়ের দায় অন্যের ওপর না চাপিয়ে আসুন আমরা নিজেরাই আমাদের নিজ পরিবারের শিশুটিকে সত্যবাদী হিসেবে গড়ে তুলি। কারণ, একটি একটি করে সত্যবাদী শিশু গড়ে তোলা মানে একেকটি সত্যবাদী নাগরিক গড়ে তোলা। সত্যবাদী নাগরিক গড়ে তোলা মানে সুন্দর সামাজ গড়ে তোলা। আর সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা মানেই সুন্দর ও সভ্য জাতি গড়ে তোলা।

n লেখক :ফাউন্ডার, গুণীজন ফাউন্ডেশন