উচ্ছ্বসিত জনতার বিস্মিত চোখের সামনে দেশের রাজধানীর আকাশে পরীক্ষামূলকভাবে যেন পাখা মেলল মেট্রোরেল। এ ব্যাপারে পাঠকদের মূল্যায়ন ও অনুভূতি জানতে চাওয়া হয়েছিল। টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত সেই অভিমত আজ প্রকাশিত হলো।
মেট্রোরেল চালু হলে গণপরিবহণের অভাব অনেকাংশেই দূর হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বাঁচবে নগরবাসীর মূল্যবান সময়ও। তবে মূলত উত্তর-দক্ষিণ পথে চলাচলকারীরাই এর সুফল বেশি পাবেন বলে আপাতত মনে হচ্ছে! যতদূর জানি, মহানগরীতে উত্তর-দক্ষিণমুখী সড়ক তুলনামূলক বেশি, আবার মেট্রোরেলও উত্তর-দক্ষিণমুখী। কিন্তু নগরীতে পূর্ব-পশ্চিমমুখী সড়কের সংখ্যা অনেক কম। এ বাস্তবতায় ঢাকাবাসীর যাতায়াতের দুর্ভোগ পুরোপুরি নিরসনে আমাদের দেশের নগর পরিকল্পনাবিদ এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের উচিত এ দিকটিতে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়া।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর অন্যতম মেট্রোরেল এখন আর স্বপ্ন নয়, দৃশ্যমান এক বাস্তবতা। মেট্রোরেল নগরবাসীর জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ও গতি আনবে বলে আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি। গাজীপুর থেকে রাজধানী ঢাকাতে চলাচল করতে গিয়ে আমার অভিজ্ঞতা হলো, এ মহানগরীতে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি গণপরিবহন সংকট। এ সমস্যা নিরসনে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাস্তবতা হলো—দু’একটি ছাড়া রাজধানীর সব রুটের গণপরিবহনে যাত্রীসেবা অত্যন্ত নিম্নমানের। ফলে বাধ্য হয়েই অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি কিনে থাকেন। রাজধানীর তীব্র যানজটের এটি একটি বড় কারণ বলে আমি মনে করি। এ বাস্তবতায় রাজধানীবাসী একটি মানসম্মত গণপরিবহনের অপেক্ষায় আছে দীর্ঘদিন ধরে। আমাদের সেই লালিত স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে বলে, ব্যক্তিগতভাবে আমার অনুভূতি অসাধারণ!
সাদিয়া আফরিন মিতু
শ্রীপুর, গাজীপুর
দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হচ্ছে। বড় বড় মেগা প্রকল্পের মধ্যে মহাকাশে স্যাটেলাইট উেক্ষপণ, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলি টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার ইত্যাদি বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং চলমান রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে মেট্রোরেল চালু হওয়ার খবর করোনা দুর্যোগের মধ্যেও আমাদের প্রশান্তি দেয়।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত ছোঁয়ার স্বপ্ন আজ অনেকটাই বাস্তব। মেট্রোরেল প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের সফলতা সত্যিই প্রশংসনীয়।
এ এফ এম সালাহউদ্দীন
বান্দরবান পার্বত্য জেলা
মেট্রোরেল প্রকল্প বাংলাদেশের সক্ষমতার নতুন দৃষ্টান্ত। পদ্মা সেতুর পর মেট্রোরেল প্রকল্প নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার গতি বাড়াল। পুরোদমে চালু হলে যোগাযোগব্যবস্থার শ্রী বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নয়নের পথ আরো মসৃণ হবে।
আবুল কাশেম
সিকদার ভিলা, বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম
মেট্রোরেল স্থলপথে দ্রুত যাতায়াতব্যবস্থা। তবে এর সংযোগস্থলগুলো যাতে ফ্রি থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে, এমনটি না হয় যাত্রীরা দিয়াবাড়ী থেকে দ্রুত এসে যেখানে নামল সেখানে যানজটের জন্য প্রত্যাশিত কাজ হলো না—সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
মো. ফিরোজ আহম্মেদ
মিরপুর সেকশন ৬, ঢাকা
মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক সূচনা (টেস্ট রান) এর নির্মাণাধীন বাস্তবতা পেরিয়ে প্রক্ষেপিত সময়সীমায় শিগিগরই ঢাকাবাসীর জন্য শান্তিময় নৈমিত্তিক ভ্রমণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠুক।
ওয়ারেছ আলী খান
সদর, রংপুর
স্বপ্নের পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হওয়ার পর বহুল আলোচিত মেট্রোরেলের এমন শুভ সূচনা বাংলাদেশের সক্ষমতার পরিসংখ্যানকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছে। যোগাযোগ খাতে অবিস্মরণীয় সফলতার এমন দৃষ্টান্তকে জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য করতে হলে এখনো অনেক দূর পথ পাড়ি দিতে হবে। সব রকম দুর্নীতি ও অশুভ শক্তিকে পরাস্ত করে অদম্য ও প্রত্যয়ী বাংলাদেশের এমন পরিচয় বারবার ফুটে উঠুক এই প্রত্যাশায় সরকার এবং মেট্রোরেল প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন।
আবু ফারুক
বনরুপা পাড়া, সদর, বান্দরবান
ঢাকা জনবহুল এবং কোলাহলপূর্ণ একটি শহর। ৬০৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ঢাকা শহরে বাস করে প্রায় তিন কোটি মানুষ। বিপুল এই জনসংখ্যার শহরে যানজট আর সড়ক দুর্ঘটনা নিত্যদিনের সঙ্গী। এই অবস্থায় মেট্রোরেল ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষের স্বপ্ন। জনগণ প্রতীক্ষার দিন গুনছে কবে উঠবে স্বপ্নের মেট্রোতে। এর মধ্যে মেট্রোরেলের চারটি স্টেশনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এই চার স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে রেল চলাচল শুরু হয়েছে। তবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে মেট্রোরেল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চালু হবে সম্পূর্ণরূপে এই সার্ভিস। মেট্রো বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বিদ্যুত্চালিত বাহন। দেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যানজট নিরসনের মাধ্যমে সময় বাঁচানো, সড়ক দুর্ঘটনা ও পরিবেশদূষণ রোধ করে মেট্রো ট্রেন একটি সুস্থ শহর ফিরিয়ে দেবে।
রুকাইয়া মাহজাবিন
গাইবান্ধা
বদলে যাবে ঢাকা, কমবে যানজট—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর পরে এবার ঢাকার আকাশে পরীক্ষামূলকভাবে উড়াল দিল মেট্রোরেল। এটি এখন আর স্বপ্ন নয়। এটি এখন দৃশ্যমান, যা নগরবাসীর জন্য যানজটের দুর্ভোগ কমানোর মতো স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। মেট্রোরেলের দরুন এখন আর উত্তরা থেকে কমলাপুর, মতিঝিল কিংবা আগারগাঁও যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে জ্যামে বসে দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। তবে যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আয়ত্তের মধ্যে রাখতে হবে এর টিকেটের মূল্য। তাহলেই সুফল পাবে সর্বসাধারণ এবং মেট্রোরেল সফল হবে।
সাদিয়া ইসলাম সমপা
চাঁদপুর
দেশ যে কতোটা এগিয়ে গেছে—পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল তার উদাহরণ। আগে বিভিন্ন উন্নত দেশে মেট্রোরেল শুধু বড় পর্দায় দেখেই অভ্যস্ত ছিলাম। এখন সেটা নিজেদের দেশেই দেখতে পাব। মেট্রোরেল আসলেই আমাদের প্রত্যেকটি বাঙালির আবেগ ও অহংকারের। অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সবাইকে, যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই বৃহত্ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে।
ফারহানা নওশিন তিতলী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
গত কয়েক বছর আগে মানুষ যা কল্পনাও করতে পারেনি আজ তা চোখের সামনে দৃশ্যমান। সত্যিই এক আনন্দের অনুভূতি! বহুল আকাঙ্ক্ষিত এই মেট্রোরেল নগরবাসীকে দীর্ঘদিনের যানজটের ভোগান্তি থেকে যেমন মুক্তি দেবে, সেইসঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন এক মাত্রা যুক্ত হবে। যানজট ও গণপরিবহনের অযাচিত চলাচলের কারণে যে পথ পাড়ি দিতে হয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যেত, শিগগিরই তা মিনিটের হিসাবে গণনা করার সময় এসে গেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পদ্মা সেতুর পর মেট্রোরেলের মতো বড় একটি প্রজেক্টে সফলতা অর্জন জাতি হিসেবে আমাদের অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করে। এভাবেই আমাদের প্রত্যাশার পারদ বাড়তে থাকুক।
মুশফিকুর রহমান ইমন
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
নিঃসন্দেহে এটা বলা যায় যে, ঢাকাকে বদলে দিতে বসবাসযোগ্য এক নগরী উপহার দিতে এ প্রচেষ্টা নিশ্চয়ই সময়োপযোগী। মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু হলে এমন অবিশ্বাস্য রকমের বদলে যাওয়াকে সাধারণ মানুষ শুধু গল্প মনে না করে বিশ্বাস করবে যে—আমরা পারি, বাংলাদেশ পারে।
নাইমা রিতা
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
দ্রুতগামী পরিবহন মেট্রোরেল রাজধানীবাসীর জন্য আর্শীবাদস্বরূপ। যানজট ঠেলে আর পৌঁছোতে হবে না গন্তব্যস্থলে, বেঁচে যাবে অধিক সময়। কাঙ্ক্ষিত এলাকার গণপরিবহন পাওয়ার জন্যও পোহাতে হবে না বাড়তি কোনো ঝামেলা, পরিবেশদূষণও কমে যাবে এই মেট্রোরেলের সুবাদে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।
আকলিমা আক্তার শাম্মী
টাংগাইল
২০১৩ সালে যখন একনেকের বার্ষিক বৈঠকে মেট্রোরেল প্রকল্প পাশ হয় তখন অনেকেই অবিশ্বাস-অবজ্ঞার সুরে বলেছিলেন অনেক কথা। কিন্তু এখন বাস্তব সত্য। বর্ষায় জমে থাকা পানি, শীতে রাজ্যের ধুলা, সরু রাস্তার তীব্র কোলাহল-যানজটে হাঁপিয়ে উঠেছিল শহরবাসী। আশা করছি মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর জনগণের সব কষ্ট দূর হবে, স্বল্প সময়ে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ যানজটহীনভাবে যাতায়াত করতে পারবে। বেঁচে যাবে অসংখ্য কর্মঘণ্টা, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
মুমতা হেনা মীম
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
বহুল কাঙ্ক্ষিত মেট্রোরেল দৃশ্যমান—বিষয়টি ভাবতেই একটু অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে। কয়েক বছরে একটু একটু করে স্বপ্নের মেট্রোরেল ঢাকার বিভিন্ন জায়গার প্রধান সড়কের বুক চিরে গড়ে উঠেছে। এজন্য সব থেকে বেশি কষ্ট ও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে মিরপুর এবং উত্তরা এলাকায় বসবাসরত জনগণকে। একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার জন্য সাময়িক কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করতেই হয়।
সানজিদা মাহমুদ মিষ্টি
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
পরীক্ষামূলকভাবে গত ২৭ আগস্ট প্রমোদভ্রমণ করল দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত স্বপ্নের মেট্রোরেল। ছয়টি বগি নিয়ে রাজধানীর উত্তর দিয়াবাড়ি থেকে মিরপুর পর্যন্ত চারটি স্টেশনে তার এই স্বল্পকালীন ভ্রমণে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়।
আতিয়া ফাইরুজ ঐশী খান
ঢাকা
মেট্রোরেলের জাদুকরী ছোঁয়ায় নগরবাসী সড়ক দুর্ঘটনা, যানজট, যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া ও অতিমাত্রার শব্দদূষণের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। দ্রুতগামী ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেট্রোরেলে রুট পারমিট অনুসরণ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও অন্যান্য পেশার জনগণ সময়মতো স্বস্তিতেই কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে পারবে। অত্যাধুনিক এই যানের প্রতিটি কোচে চারটি করে সিসিটিভি ফুটেজ ও ইমার্জেন্সি কল বাটন থাকবে।
রুকাইয়া মিজান মিমি
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
অবশেষে পরীক্ষামূলকভাবে পাখা মেলল মেট্রোরেল। রাজধানী ঢাকাতে বিপুল সংখ্যক মানুষের বাস। যানজট এখানকার প্রধান সমস্যা। এই যানজট সমস্যার সমাধানে মেট্রোরেল প্রকল্প সত্যি একটি মাইলফলক।
সিদরাতুল মুনতাহা
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
বহু আকাঙ্ক্ষিত মেট্রোরেল ভায়াডাক্টে চলল রবিবার। মেট্রোরেল ছুটে চলার এই দৃশ্য ছিল অনিন্দ্য সুন্দর! ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে গর্ববোধ করছি। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বারবার গণমাধ্যমে নজর রাখছিলাম অপূর্ব এই দৃশ্য অবলোকনের জন্য। মেট্রোরেল যখন আকাশপথে, তখন অন্যরকম এক অনুভূতি দোল খাচ্ছিল মনে। মুখ ফুটে বেরিয়ে গেল—বেশ! বেশ!
অনন্য প্রতীক রাউত
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
