পশ্চিম উপকূলের সাগর নদীতে ইলিশের আকাল

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫০

পশ্চিম উপকূলের সাগর ও নদীতে ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। জেলে ও মত্স্য ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। জেলেদের মুখে হাসি নেই। ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করবেন সে চিন্তায় তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

শরণখোলার ফিসিংবোট মা-বাবার দোয়া, এফবি কালাম ও এফবি খায়রুল ইসলামের মালিক  কবির আড়তদার বলেন, সাগরে জাল ফেলে জেলেরা ইলিশ পাচ্ছে না। একেকবারে জাল ফেলে চার-পাঁচটি করে জাটকা ধরা পড়ছে। তিনি ৩০ বছর ধরে মাছের ব্যবসা করছেন। তবে এ বছরের মতো পরিস্থিতিতে কখনো পড়েননি। প্রতিবার সাগরে মাছ ধরতে ফিসিংবোট পাঠাতে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়, সেখানে মাছ বিক্রি করে পাওয়া যায় ৭০/৮০ হাজার টাকা। সাগরে মাছ না পাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ৬৫ দিনের অবরোধ চলার সময় ভারতীয় জেলেরা পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় অবাধে ইলিশ শিকার করে নিয়েছে। তাছাড়া পুবালি বাতাস না থাকায় ইলিশ কক্সবাজার মিয়ানমার অঞ্চল থেকে পশ্চিম সাগরে আসছে না। পিরোজপুরের মত্স্য বন্দর পাড়েরহাটের মত্স্য আড়তদার ইকবাল হোসেন জানান, সাগর থেকে জেলেরা কিছু জাটকা নিয়ে ফিরে আসছে, কোনো ইলিশ পাচ্ছে না।

বাংলাদেশ ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, সাগরে ইলিশসংকটে জেলে মত্স্যজীবীরা এবছর বড় ধরনের অসুবিধায় পড়েছেন। মহাজনের দাদন ও ব্যাংক ঋণ কীভাবে শোধ করবেন সে চিন্তায় মত্স্যজীবীরা দিশাহারা। অনেক ফিসিংবোট মালিক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছেন বলেও তিনি জানান। বাগেরহাট জেলা মত্স্য কর্মকর্তা এ এস এম রাসেল ইত্তেফাককে বলেন, বঙ্গোপসাগরে বিপুল পরিমাণ বাঁধা ও বেহুন্দি জাল পাতা রয়েছে। এছাড়া নাব্যসংকট এবং সুন্দরবনে ব্যাপকভাবে কীটনাশক দিয়ে মাছ ধরার ফলে বিষ মিশ্রিত পানি সাগরে পড়ায় ইলিশ পূর্ব সাগরে চলে যাচ্ছে।