সত্যজিত্ বিশ্বাস
ভ্যালেন্টাইনস ডে
স্যার :কীরে ফাজিল ছেলে, ভ্যালেন্টাইনস ডেতে গোলাপের তোড়া হাতে আমার বাসার সামনে দিয়ে ঘুরঘুর করছিস কেন?
ছাত্র :স্যার আপনাকে দেব বলে।
স্যার :ও আচ্ছা, তাই নাকি! দে, দে। আমি খুব খুশি হয়েছি রে।
ছাত্র :ভালোবাসা সার্বজনীন। তাই না স্যার?
স্যার :অবশ্যই। সবাই সবাইকে ভালোবাসতে পারে। এখানে বাছবিচার বলে কিছু নেই। এই যেমন তুই আমাকে দিলি।
ছাত্র :ইয়ে মানে... তাহলে স্যার এই গোলাপের তোড়া থেকে দুটো গোলাপ আপনার মেয়ে স্বর্ণাকে দিই?
স্যার :তবে রে ফাজিল ছেলে!!
ভাবিয়া করিয়ো কাজ
শিক্ষক :মন দিয়ে শোনো, স্কুলে এসে পড়াশোনার পাশাপাশি তোমাদের আরও কিছু জিনিস শিখতে হবে। ঝোঁকের মাথায় কখনো কিছু বলে বসবে না। তাহলে কিন্তু পস্তাতে হবে। কিছু বলার আগে ভেবেচিন্তে তারপর বলবে।
এক ছাত্র :ভেবে বললেও কি ভুল হতে পারে না স্যার?
শিক্ষক :ঠিকই বলেছ, একবার, দুইবার ভাবলে ভুল হতে পারে। যত বেশিবার ভাববে, ভুল হবার আশঙ্কা তত কম। কোনো দরকারি বা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার আগে অন্তত পঞ্চাশবার ভেবে বলবে। বিশেষ দরকারি কথা হলে একশবার ভাববে। তারপর বলবে। মনে থাকবে?
সব ছাত্ররা মাথা দোলাতে লাগল। শুধু একটা ছাত্র হাত তুলল, ‘স্যার, একটা কথা...’
স্যার :একটু আগে কী বললাম? কথাটা বলা কি খুব জরুরি?
ছাত্র :জি স্যার।
স্যার :তাহলে কাউন্টিং শুরু করো।
ছাত্র (প্রবলবেগে বিড়বিড় করতে করতে) :এক, দুই, তিন... আটচল্লিশ, ঊনপঞ্চাশ, পঞ্চাশ। স্যার এখন বলি? খুব জরুরি কথা, প্লিজ আমাকে বলতে দিন। নাহলে কিন্তু...
স্যার :একটু আগে কী শেখালাম? খুব জরুরি কথার ব্যাপারে পঞ্চাশ বারে থামলে চলবে না। একশ পর্যন্ত গোনো। এই যে ক্লাসের বাকিরা, তোমরা সবাই দেখে শেখো।
ছাত্র (প্রাণপণে বিড়বিড় করতে করতে) :...আটানব্বই, নিরানব্বই, একশ।
স্যার :গুড, ভেরি গুড। এবার বলো, কী বলতে চাও?
ছাত্র :এখন আর বলার কিছু নেই। জরুরি কাজ হয়ে গেছে।
স্যার :মানে?
ছাত্র :খুব বাথরুম চেপেছিল। ওটা প্যান্টে হয়ে গেছে।
বিশ্বাস করুন আর নাই করুন
v কিছু জিনিস ভাগ্য নিয়েই জন্মায়। কিছু করুক আর নাই করুক, তার কোন গুণ থাকুক আর নাই থাকুক ভাগ্য তাকে খ্যাতির আসনে বসাবেই। তার কর্ম গুণে নয়, কপাল গুণেই সব। কী বিশ্বাস হচ্ছে না?
শাপলা ফুল মাটিকেও ছোঁয় না, তার কোনো গন্ধও নেই। ম্যাঙ্গো পিপলের (আম জনতার) হাতের নাগালে না থাকা এ ফুলের তেমন কোনো গুণ আছে কিনা কে জানে? ভ্যালেন্টাইনস ডেতে এত্ত বড় ফুল কোনো মেয়ে খোঁপায় নেওয়ার দুঃসাহস করেছে বলেও জানা যায়নি। তাই বলে কি বাংলার মাটিতে শাপলার জাতীয় ফুল হওয়া ঠেকিয়ে রাখা গেছে?
v মেয়েদের চোখে ছেলেরা হলো রিকশাওয়ালার মতো, একটা ডাকলে চৌদ্দটা আসে।
ছেলেদের চোখে মেয়েরা হলো সিএনজিওয়ালার মতো, চৌদ্দটা ডাকলেও একটা আসে না। যাও একটা/দুইটা আসে, কয়, ‘যামু না।’
v মা-বাবা তার ছেলেকে উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে সময় লাগায় বিশ বছর।
সেই ছেলেকে কোনো লাস্যময়ী তুড়ি মেরে অর্জিত শিক্ষা ভুলিয়ে দিতে সময় লাগায় বড়জোর বিশ মিনিট।
v কে বলে, ভালোবাসা বুকের গভীরে লুকিয়ে রাখার জিনিস? ভালোবাসা যদি লুকিয়ে রাখার জিনিসই হয় তাহলে ভ্যালেন্টাইনস ডেতে মানুষ সবচেয়ে বেশি শোঅফ করে কেন?
দূরদর্শিতা
শিক্ষিকা :শোনো মেয়েরা, এসব ভ্যালেন্টাইনস ডে, রূপচর্চার দিকে নজর না দিয়ে পড়াশোনার দিকে মন দাও। ওটাই তোমাদের সুন্দর ভবিষ্যত্ দেবে।
পিছনের বেঞ্চ থেকে এক ছাত্রী :কী যে বলেন মিস, রূপচর্চা না করলে সুন্দর দেখাবে? আর সুন্দর না দেখালে কোনো সুন্দর ছেলে বিয়ে করবে? আর দুজনেই যদি অসুন্দর হই, তাহলে সুন্দর ভবিষ্যত্ আসবে কী করে?
ছন্দে ছন্দে সাক্ষাত্কার
টিভি চ্যানেলের উপস্থাপক :আচ্ছা কবি ভাই, ভ্যালেন্টাইনস দিবসটা আসলে কী?
বিদগ্ধ কবি :অলিখিত আইন/ ধারা সিক্সটি নাইন/ বলির পাঁঠা দিবস—ভ্যালেন্টাইন।
উপস্থাপক :তাহলে ভ্যালেন্টাইন দিবসের তাত্পর্য কী?
বিদগ কবি :ধরিয়া ধৈর্য/ করিয়া কর্জ/ সিল খাওয়াই মূল তাত্পর্য।
উপস্থাপক :ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে ভক্তদের প্রতি আপনার মেসেজ কী?
বিদগ কবি :কোরো নাকো ভুল/ দিয়ে না গো ফুল/ দিন শেষে মাথায়, থাকিবে না চুল।
উপস্থাপক :ব্যাপার কী ভাই, আপনি তো দেখি সেই তখন থেকে ভ্যালেন্টাইনস ডে নিয়ে নেগেটিভ কথা বলেই যাচ্ছেন। ছ্যাঁকা খাইছেন নাকি?
বিদগ্ধ কবি :জীবন মানেই ছ্যাঁকা/ একবার না, বারবার হয়েছি ব্যাঁকা/ বিলিভ মি (এক জীবনে) প্রতিটি মানুষ একা।
কথা হলে তো জানব
চন্দন :এই যে বাড়িটা দেখছিস, এটা হলো এ পাড়ার সবচেয়ে ধনীর বাড়ি। ওনার একমাত্র সুন্দরী মেয়েই আমার ভ্যালেন্টাইন কুইন।
খোকন :বলিস কী, তুই তো বিশাল লাকি!
চন্দন :সে বলতে পারিস। ওকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন।
খোকন :তা, তোর ভ্যালেন্টাইনের স্বপ্ন কী রে?
চন্দন :সে আমি কেমন করে জানব? আমার সাথে কথা হলে তো জানব।
জাস্ট ফ্রেন্ড না বয়ফ্রেন্ড
তুহিন :ভ্যালেন্টাইনস দিবসে অনেক অনেক ভালোবাসা আর আদর নিয়ো।
মুন :মানে কী? তুমি কি আমার ফ্রেন্ড না বয়ফ্রেন্ড?
তুহিন :কেন, আমি তো বয়ই। কোনো সন্দেহ?
সব কৃতিত্ব তোমার
দার্শনিক জামাই :আজ তো ভ্যালেন্টাইনস ডে। আমার কাছে কী চাও, বলো?
বউ :ওমা, যা চাই, তাই দেবে?
দার্শনিক জামাই :দেব না মানে, অবশ্যই দেব।
বউ :তুমি এত ভালো কেন গো?
দার্শনিক জামাই :তুমি জন্ম না নিলে আমার জীবনটাই অন্য রকম হয়ে যেত।
বউ :সে কেমন?
দার্শনিক জামাই :তুমি জন্ম না নিলে কী করে তোমাকে পেতাম? আর তোমাকে বিয়ে করতে না পারলে আজ এত বড় দার্শনিক হতে পারতাম?
ভালোবাসার মূল্য
এ জগতে সবচেয়ে বেশি কে ভালোবাসে আপনাকে? ভালোবাসার হিসাব কষার ফরমেট পাচ্ছেন না?
ঠিক আছে দিয়ে দিচ্ছি ফরমেট।
v আপনার এই হা-হুতাশ মার্কা নিরস জীবনে সবার সামনে সবচেয়ে বেশি চুমু খেয়েছে কে?
v কে তার জীবনের মায়া ত্যাগ করে শুধু ভালোবাসার টানে আপনার কাছে ছুটে এসেছে?
v কে সেই লতা মঙ্গেশকর, যে শুধু আপনাকে গান শোনানোর জন্য নিশিরাতে দাওয়াত ছাড়াই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসে?
v কে সেই পাগলু, যে কোনো রকম গ্রুপ টেস্ট ছাড়াই আপনার রক্ত তার নিজের শরীরে টেনে নেয়?
v কে সেই সুজন, আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও জড়িয়ে ধরে থাকতে তোয়াক্কা করে না?
v কে সেই ফ্লাইং মাস্টার, যে জানে, আপনাকে ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে সুযোগ পেলেই আপনিই তাকে খুন করবেন?
ভ্যালেন্টাইন ডেতে অ্যারোসোল স্প্রে অথবা বৈদ্যুতিক ব্যাট কিংবা রক্তাক্ত হাতের দিকে তাকিয়ে একটু ভেবে বলুন তো এভাবেই বুঝি ভালোবাসার প্রতিদান দিতে হয়?
দর্শন
প্রথস বান্ধবী :দ্বিতীয় দর্শনেই আমি ওর প্রেমে পড়ে যাই।
দ্বিতীয় বান্ধবী :কেন, প্রথম দর্শনে কী সমস্যা ছিল?
প্রথম বান্ধবী :প্রথম দর্শনে ওর সাথে এক ডাইনি ছিল তো। ওই ডাইনির দিকে তাকাতে তাকাতেই সময় চলে গিয়েছিল।
আবার করবে কে?
প্রেমিক :আমাকে যখন বিয়ে করবেই না, তখন আমার চিঠিগুলো আর গিফটগুলো আমাকে ফেরত দাও।
প্রেমিকা :না, ওগুলো আমি পুড়িয়ে ফেলব।
প্রেমিক :ইশ, বললেই হলো? এত কষ্ট করে লিখেছি আর বাবার পকেট থেকে টাকা চুরি করে কিনেছি কি পুড়িয়ে ফেলার জন্য? তাছাড়া...
প্রেমিকা :তাছাড়া কী?
প্রেমিক :এত কস্ট করে আবার লিখতেও পারব না, টাকা চুরিও করতে পারব না।
বইমেলায় বই বের করার জন্য নব্য লেখক যে বাণীগুলো শোনে
প্রকাশক :একেবারে ঠিক করে বলেন তো, আপনার কত কপি বই যাবে? দুই শ কপি বইয়ের নিচে যদি যায়, বাকিগুলো কিন্তু আপনার কিনে নিতে হবে, আগেই বলে দিলাম।
বাবা :রাইটার হইছে রাইটার। আরে বেটা তুই যদি কোর্টের কিংবা থানার ডায়েরি লেখার রাইটার হইতি তাইলেও তো দুইটা পয়সা হাতে পাইতি। বেকুব কোথাকার!
মা :বিলকিসের সাথে তোর চিঠি চালাচালি নিয়ে অনেক বকাবকি করেছিলাম। তখন তো বুঝি নাই বাবা, তোর মধ্যে এত প্রতিভা।
বন্ধু :কীরে তুই আবার বইও লিখে ফেলছিস? তা, কারটা দেখে কপি করলি? দে, তোর বইটা অটোগ্রাফসহ গিফট কর। সবাইকে দেখাতে হবে না? জানিস না, প্রচারেই প্রসার...
আত্মীয়স্বজন :বই বের করছ, বাহ্ এ তো খুশির খবর। বই নিয়ে এসো বাসায়। পড়ে দেখব নে, কেমন লিখেছ।
অফিস বস :শুনলাম, আপনি নাকি লেখালিখি শুরু করে দিয়েছেন? ভালো, ভালো। তা, দিয়েন তো কয়েকটা বই। আপনার ভাবির বাপের বাড়িতে আবার সবার গল্পের বই পড়ার শখ।
বউ :কই, এত গল্প যে লেখো, একটা গল্পও কি তুমি আমাকে নিয়ে লিখছ? পারবে দেখাতে? এত প্রেমের গল্প কোথা থেকে আসে? সব নিজের জীবনের গল্প—সত্যি কি না বলো?
সিনেমা দেখা
প্রেমিক :চলো একটা সিনেমা দেখি।
প্রেমিকা :ঠিক আছে। টিকিট কাটার সময় খেয়াল করে একেবারে উপরের সারির ডান কর্নারের দুটো টিকিট কেটো।
প্রেমিক :আচ্ছা ঠিক আছে। কিন্তু যদি ডান কর্নারের টিকিট না পাই?
প্রেমিকা :তাহলে তবে একেবারে উপরের সারির বাম কর্নারের দুটো টিকিট কেটো।
প্রেমিক :যদি একেবারে উপরের সারির বাম কর্নারের টিকিট না পাই?
প্রেমিকা :তাহলে এক সারি নিচের ডান কর্নারের দুটো টিকিট কেটো।
প্রেমিক :যদি সেটাও না পাই?
প্রেমিকা :তাহলে এক সারি নিচের বাম কর্নারের দুটো টিকিট কেটো।
প্রেমিক :কিছু মনে করো না, তুমি একেবারে উপরের দিকের আর কোনার দুটো টিকিট কাটতে বলছ কেন?
প্রেমিকা :কারণ, তাহলে সিনেমা দেখতে দেখতে আমাদের দিকে তাকাবে না কেউ।
প্রেমিক :কিন্তু যদি মাঝে সিট পাই?
প্রেমিকা :তাহলে আর কী? সিনেমাহলের সব মানুষ তখন এক টিকিটে দুই সিনেমা দেখবে।
এই সপ্তাহে আমাদের হাতে, আগামী সপ্তাহে আপনাদের হাতে
স্যার :কীরে, কই যাস? তোর হাতে ফুল কেন?
ছাত্র :ইয়ে মানে স্যার, আজ ভ্যালেন্টাইনস ডে না?
স্যার :আমরাও তো বড় হয়েছি, কই আমাদের সময় তো ফুল নিয়ে এত আদিখ্যেতা ছিল না।
ছাত্র :কী যে বলেন স্যার? এই বৃহস্পতিবার আমরা ফুল নিয়ে হাঁটছি, আগামী বৃহস্পতিবার আপনারা ফুল নিয়ে হাঁটবেন।
স্যার :কী করে?
ছাত্র :আগামী বৃহস্পতিবার ২১শে ফেব্রুয়ারি না!
ঠিক হবে?
প্রথম বান্ধবী :কীরে, ভ্যালেন্টাইনস ডেতে মুখ গোমড়া করে বাসায় বসে আছিস, ব্যাপার কী?
দ্বিতীয় বান্ধবী :যে ছেলেটাকে পছন্দ করি, সে আমাকে বিয়ে করতে পারবে না বলে দিয়েছে।
প্রথম বান্ধবী :কী বলিস, ফাজলামি নাকি! বিয়ে করবে না মানে? ওর বাপ বিয়ে করবে।
দ্বিতীয় বান্ধবী :কিন্তু যাকে ভালোবাসি, তার সত্মা হওয়াটা কি ঠিক হবে?
সেই বয়স আছে?
স্যার :কীরে, গতকাল স্কুলে এলি না কেন?
ছাত্র :গতকাল তো ভ্যালেন্টাইনস ডে ছিল স্যার।
স্যার :তো কী হয়েছে? আমি স্কুলে আসি নাই?
ছাত্র :কী যে বলেন স্যার! আপনার কি আর সেই বয়স আছে?
ফুলকাব্য
মামা :ভ্যালেন্টাইনস দিবস আর একুশে ফেব্রুয়ারির মধ্যে মিল কী বল তো?
ভাগ্নে :দু জায়গাতেই ফুল নিবেদন করা হয়।
মামা :আর?
ভাগ্নে :আর কী?
মামা :দুটোই শোক দিবস। কেউ স্বীকার করে, কেউ করে না।
