বন্যায় ভেসে গেছে নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি ১৫ জনের মৃত্যু

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:০৩

সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় আইডার প্রভাবে রেকর্ড বৃষ্টিপাত এবং পানির ঢলে বন্যা দেখা দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে বন্যায় এবং ঝড়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য রাজ্যে ৫ থেকে ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বন্যায় বহু মানুষ তাদের বাড়ির বেজমেন্টে আটকে পড়েছে। অনেক বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। ভেসে যাওয়া একটি গাড়ির ভেতর থেকে একজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের

নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও শহরটিতে এখন যেরকম ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে এবং রাস্তায় যেরকম বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হয়েছে, তাকে এক ‘ঐতিহাসিক আবহাওয়া দুর্যোগ’ বলে বর্ণনা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে এবং লোকজনের বাড়ি-ঘর ও         রাস্তাঘাট সব বন্যায় ভেসে গেছে। নিউ ইয়র্কের একজন বাসিন্দা জর্জ বেইলি জানান, এরকম ভয়াবহ বন্যা হবে বলে তিনি ভাবেননি। তিনি জানান, ‘রাতের খাবার খেতে বসার পর আমি পানির শব্দ শুনতে পাই, আমাদের বাথরুমের শাওয়ারের ড্রেন দিয়ে গল গল করে পানি ঢুকছিল। এরপর আরেক রুমে গিয়ে পানির লাইন পরীক্ষা করছিলাম। কিন্তু যখন আমি বসার ঘরে ফিরে আসলাম, ততক্ষণে সেখানে প্রায় এক ফুট পানি। যেরকম দ্রুত গতিতে পানি ঢুকে সব ভেসে গেল, তা অবিশ্বাস্য।’ নিউ ইয়র্কে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে যার মধ্যে দুই বছর থেকে ৪৮ বছরের নাগরিক রয়েছেন। নিউ ইয়র্কের পার্শ্ববর্তী নিউ জার্সিতেও জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং সেখানে অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

নিউ জার্সিতে ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ৯টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। নিউ জার্সিতে ডাক বিভাগের একটি ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে। এসময় ভেতরে লোকজন ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে, তবে কত লোক আহত হয়েছে তা পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে মাত্র এক ঘণ্টায় সোয়া তিন ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্কের পুলিশ লোকজনকে রাস্তায় না যেতে পরামর্শ দিয়েছে। দমকল বিভাগ জানিয়েছে, নগরীর নানা প্রান্ত থেকে আসা সাহায্যের আবেদনে তাদের সাড়া দিতে হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের সাবওয়ের বেশির ভাগটাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সি থেকে বেশির ভাগ ট্রেন এবং বিমানের তিন শতাধিক ফ্লাইটও বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আইডা গত রবিবার লুইজিয়ানায় আঘাত হানার পর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল ধরে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়। এই ঘূর্ণিঝড়টি ছিল ক্যাটাগরি চার মাত্রার। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে লুইজিয়ানায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে এখনো পৌনে ১০ লাখ মানুষের ঘরবাড়িতে বিদ্যুত্ সংযোগ নেই। এখানে গ্যাসেরও সংকট দেখা দিয়েছে। নিউ অরলিন্সে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি রয়েছে। মিসিসিপি, আলাবামা, পেনসিলভানিয়া, মেরিল্যান্ডেও আইডা আঘাত হানে এবং বন্যা দেখা দিয়েছে। অনেক রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে। এসব এলাকায় অন্তত ছয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, জরুরি অবস্থা

ক্যালিফোর্নিয়ায় আবার দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যাল্ডর ফায়ার নামের এই দাবানল ২৪টি স্থানে ছড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেখানে জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি সেখানে দমকলকর্মীদের সহায়তার বিষয়েও কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। গত ১৪ আগস্ট দাবানলের প্রাদুর্ভাব ঘটে। ২ লাখের বেশি একর জুড়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সাত শতাধিক বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে।