অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এলডিসি বা স্বল্পোন্নতের তকমা কখনোই সম্মানের হতে পারে না। দরিদ্র হয়ে জন্ম নেওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু দরিদ্র হয়ে বেঁচে থাকা এবং মারা যাওয়া অভিশাপ। কেননা আমাদের রয়েছে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা। জন্মগতভাবে আমরা সবাই সমান নই, কিন্তু আমাদের অবস্থার উন্নতির জন্য রয়েছে এক বা ভিন্ন ভিন্ন রকমের সুযোগ ও সক্ষমতা। আমরা যদি একটু পেছনে ফিরে তাকাই, বিশেষ করে ২০০ বছর আগেও দেখি, আজকের উন্নত দেশগুলো বর্তমান অবস্থাতে ছিল না। তখন দরিদ্র এবং দরিদ্র নয়, এমন অবস্থা ছিল ৮০ এবং ২০ অনুপাতে, আর এখন এটি সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থায় বিরাজমান। কেউ যদি তার পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা না করে, তাহলে কেউই তাকে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করতে পারবে না। আর যদি সত্যিই সে অবস্থার পরিবর্তন করতে চায়, অবশ্যই সফলতা আসবে।
অর্থমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার সুইজার?ল্যান্ডের জেনেভার জাতিসংঘ কার্যালয়ে ইউএনএলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য উচ্চপর্যায়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল পর্যালোচনা সভায় যোগ দিয়ে সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, কারো মুখাপেক্ষী হয়ে নয় বরং নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করে উন্নতি করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একই নীতিতে বিশ্বাস করেন। তার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ গত এক দশকে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং ইতিমধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। তবে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে ইস্তাম্বুল কর্মসূচির মেয়াদ (২০১১-২০২০) শেষেও ২০২০ সালের মধ্যে এলডিসির সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণ হয়নি। মাত্র চারটি দেশ উত্তরণ লাভ করেছে এবং বাকি পাঁচটি উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
সভায় মালাউয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইজেনহাওয়ার মকাকা, জাতিসংঘের ৫ম এলডিসি সম্মেলনের মহাসচিব কোর্টনি রাট্রেসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য প্রদান করেন। সকলেই দোহায় অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম জাতিসংঘ সম্মেলনকে সার্থক করার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুররুদ্ধার ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
