দেশের চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ওপার বাংলার ছবিতে অভিনয় করে এরইমধ্যে দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন অভিনেত্রী সোহারা সাবা। বর্তমানে হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজের কাজ। নিজের অভিনয় ব্যস্ততাসহ চলচ্চিত্র ও ওটিটির নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েয়েছন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—
‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ ছবির কিছু কাজ বাকি রয়েছে। লকডাউন তুলে নেওয়ায় ছবিটির শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এছাড়া ‘হইচই’-এর একটি ওয়েব সিরিজের কাজ শুরু করব। পাশাপাশি চুক্তিবদ্ধ হওয়া বেশ কয়েকটি ছবির কাজ শিগগিরই শুরু করতে যাচ্ছি।
আপনাকে গল্প নির্ভর চলচ্চিত্রে বেশি দেখার কারণ কারণ কী?
এর কারণ হলো, আমি চরিত্রের মাধ্যমে একটি গল্প বলতে চাই। আমি যে গল্প বা চরিত্রগুলো বিশ্বাস করি সেটাই করি এবং এমন কাজের সঙ্গে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
এ ধরনের ছবিতে করা চ্যালেঞ্জিং বলে মনে হয় না?
এখানে আসলে চ্যালেঞ্জের কিছু নেই। একজন অভিনয় শিল্পীর কাজই তো অভিনয় করা। যে ঘারানার কাজই করি না কেন, দিনশেষে অভিনয়টাই কিন্তু মুখ্য বিষয়। তাই নিজের সেরা অভিনয়টা করার চেষ্টা থেকেই কাজগুলো করি।
চলচ্চিত্রে নতুন স্টার তৈরি না হওয়ার কারণ কী বলে মনে করেন?
আগে আসলে চলচ্চিত্রে অনেক গুণী ও প্রতিভাবান পরিচালকরা কাজ করতেন। সবাই তো কারো না কারো হাত ধরেই নিজেকে তৈরি করেছেন। কিন্তু এখন এই জায়গাতে ঘাটতি রয়েছে বলে আমার মনে হয়। যোহরির চোখ দিয়ে প্রতিভাবানদের খুঁজে আনা মানুষের অভাব রয়েছে।
তাহলে কী বলতে চাচ্ছেন, আমাদের ভালো নির্মাতার অভাব রয়েছে?
হ্যাঁ, অবশ্যই সেই মাপের নির্মাতার অভাব রয়েছে। তবে নেই যে, এটা বলবো না। অনেক ভালো নির্মাতা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন। কিন্তু সেই কাজ তারা হয়তো করছেন না বা করা হয়ে উঠছে না।
আপনি দেশের চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ওপার বাংলার ছবিতেও কাজ করেছেন। দুই বাংলায় কাজের অভিজ্ঞতায় দেশের ইন্ডাস্ট্রিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ওপার বাংলার সিনেপ্রেমীদের হলে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি আছে, যেটা আমাদের দেশে একটু কম দেখা যায়। সেই অর্থে বলবো, দর্শক থাকলে চলচ্চিত্র ভালো অবস্থানে থাকবে এটা বলার অবকাশ রাখে না। এই জায়গাতে আমরা তাদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছি।
অনেক শিল্পীকেই বাইরের ওটিটি প্লাটফর্মে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। এটা কী দেশের প্লাটফর্মগুলো কাজের অভাবের কারণে?
না, বিষয়টি তেমন না। বাইরের কাজগুলোও তো দেশেই দেখানো হচ্ছে। এই কাজগুলো দেশের দর্শকরাই দেখছেন। তাছাড়া ওটিটি তো একটি গণ্ডির মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। সারাবিশ্ব থেকেই এর কন্টেন্টগুলো দেখা যায়।
দেশে বেশ কয়েকটি ওটিটি প্লাটফর্ম যাত্রা শুরু করলেও সেভাবে অবস্থান তৈরি করতে পারছেন না কেন?
যেকোনো কিছু যাত্রা শুরু করলে অবস্থান তৈরি করতে সময় লাগে। আমাদের প্লাটফর্মগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে আমাদের প্লাটফর্মগুলো।
কিন্তু অনেকেই সম্ভাবনার কথা বললেও শুরুতেই মাধ্যমটিতে সিন্ডিকেটের কথা শোনা যাচ্ছে। একই মুখ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এতে অন্যদের সুযোগ কেমন দেখতে পাচ্ছেন?
আমার মনে হয় না মাধ্যমটিতে সিন্ডিকেটের কোনো ব্যাপার রয়েছে। তবে দর্শকদের চাহিদা যদি থাকে তাহলে মাধ্যম কোনো বিষয় না। কারণ অভিনয়টাই মুখ্য বিষয় এখানে। যে মাধ্যমে দর্শকরা যাদের দেখতে চাইবে সে-ই কাজ করবে।
এখন টিকটক-লাইকি থেকে চলচ্চিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এতে চলচ্চিত্রের মান আরো কমে যাবে বলে মনে করছেন না?
এর আগেও কিন্তু মডেলিং থেকে চলচ্চিত্রে অনেকেই এসেছেন এবং ভালো কাজ করেছেন। কারো প্রতিভার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এছাড়া আমাদের নির্মাতারা আনকোরা অনেককেই কিন্তু তারকা বানিয়েছেন।
নানা সংকটের ভেতর দিয়ে চলা চলচ্চিত্র কী আদৌ হলে ফিরতে পারবে?
শুধু আমাদের দেশে না, সারাবিশ্বের চলচ্চিত্রই কিন্তু এখন সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। তবে আমাদের দেশের কিন্তু এখন মানুষ সুযোগ পেলেই বাইরে ঘুরতে বের হচ্ছে। মানুষ বাইরে যাওয়ার জন্য এখন অস্থির হয়ে গেছে। সেই জায়গায় হলে ভালো কিছু চললে অবশ্যই দর্শকরা হলে যাবে।
