কাজীপুরে যমুনার তীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৩৭

মাহমুদুল কবীর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

যমুনায় পানি বাড়তে থাকায় সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়ায় তীররক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। এতে চরাঞ্চলের শহর বলে খ্যাত নাটুয়ারপাড়া বাজার ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কে আছেন এলাকাবাসী। বুধবার রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার পর্যন্ত নাটুয়ারপাড়া বাজার রক্ষায় নির্মিত বাঁধের মাটির অংশের প্রায় ৮০ ফুট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, বাঁধটি সম্পূর্ণ ধসে গেলে নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, পুলিশ ফাঁড়ি, নাটুয়ারপাড়া বাজার, ডাকবাংলো, নাটুয়ারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়বে।

নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরকার বলেন, নাটুয়ারপাড়া বাজারটি কাজীপুরের ছয় ইউনিয়নসহ জামালপুরের সরিষাবাড়ী, বগুড়ার ধুনট ও সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা অধ্যুষিত চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বাঁধটির কারণেই এই এলাকায় অবস্থিত চরাঞ্চলের ১৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। ২০১৬ সালে নির্মাণের পর থেকে প্রতি বছরই বন্যার সময় এই বাঁধে ধস নামে এবং মেরামতও করা হয়। ইতিমধ্যেই বাঁধের এই ধস ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া ২ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় খাসরাজবাড়ি, মনসুর নগর ও চরগিরিশ ইউনিয়নের চারটি সেতুর পার্শ্ব সড়কেও ধস শুরু হয়েছে। সেখানেও বালুভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের কাজ চলছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার এসব এলাকা ঘুরে দেখেছেন কাজীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী।

তিনি জানান, নাটুয়ারপাড়া রক্ষা বাঁধের ভাঙন দ্রুতই রোধ করা না গেলে যে কোনো সময় পুরো বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে ১৫টি গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়বে। পুরো ইউনিয়নই নদীগর্ভে চলে যাবে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধটি রক্ষার জন্য তানভীর শাকিল জয় এমপি নির্দেশনা দিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী হায়দার আলী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে বাঁধের ভাঙন স্থানে ২ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে। কাজীপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, নাটুয়ারপাড়ার মাটির বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি সংস্কার করে। আমরা বিষয়টির খোঁজখবর রাখছি।