নদী রক্ষা না হলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে পড়বে দেশ

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৪

ওয়েবিনারে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

নদী হচ্ছে দেশের উন্নয়নের প্রাণ শক্তি, নদীকে বাঁচিয়ে রাখতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তাই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নদী ও জলাশয়কে দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। না হলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশ ভয়াবহ সংকটে পড়বে। অবিলম্বে নদীর সীমানা চিহ্নিত করে, সেগুলো দখলমুক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশোধিত নদী কমিশন আইন, ২০২০-এর খসড়া দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

গতকাল শুক্রবার ‘নদী দখলমুক্তকরণ প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা ও করণীয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও সাদাকাহ ফাউন্ডেশন-ইউএসএ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নদী কমিশনের সদ্যবিদায়ি চেয়ারম্যান ডক্টর মুজিবর রহমান হাওলাদার বলেন, ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি অনেক অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে চলে এই নদী দখল। নদী কমিশন ২০১৮-১৯ সালে সারা দেশের দখল হওয়া নদীর এলাকা ও দখলদার চিহ্নিত করে দিয়েছে। এখন ধারাবাহিকভাবে সেসব দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে স্থানীয় প্রশাসনকে। এ বিষয়ে কারো সঙ্গে কোনো আপোষ করা যাবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, আমাদের অর্থনীতি, ইকোসিস্টেম, ডেভেলপমেন্ট পুরোটাই নদীর ওপর নির্ভরশীল। সে সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই। বর্ষা, বন্যা এগুলোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমরা অনুধাবন করি না। এসব বিষয় না বুঝলে, না জানলে আমরা বাঁচতে পারব না। তাই অবিলম্বে নদীর সীমানা চিহ্নিত করে, সেগুলো দখলমুক্ত করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পবার সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুস সোবহান বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও নদী দখল বন্ধে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত জরুরি। কারণ সরকারদলীয় কিছু অসাধু লোকের কারণে এ ধরনের সংকট চলে আসছে বছরের পর বছর।

সাদাকাহ ফাউন্ডেশন-ইউএসএর প্রধান নির্বাহী মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নদী ও জলাশয় দখল, তাই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নদী ও জলাশয়কে দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। না হলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশ ভয়াবহ সংকটে পড়ে যাবে, যা থেকে সৃষ্ট দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা বাংলাদেশের জন্য অনেকটাই কষ্ট সাধ্য হবে।

পবার চেয়ারম্যান সাত দফা সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে, খাদ্য উত্পাদন টিকিয়ে রাখার জন্য নদীর নাব্যতা রক্ষায় সোচ্চার হতে হবে, নদীর জায়গায় কোনো স্থাপনা গড়ে তোলা যাবে না, কঠোর আইনের মাধ্যমে নদীর পানি প্রবাহ সুনিশ্চিত করতে হবে, সড়কপথের পাশাপাশি নৌপথের উন্নয়নে জোর দিতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, স্বল্প উচ্চতার ব্রিজ চিহ্নিত করে এগুলোর উচ্চতা বাড়াতে হবে, নদীতে টানেল করে তার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে এবং নদীর সীমানা চিহ্নিত করে অবৈধ দখলগুলো উচ্ছেদ করতে হবে, পাশাপাশি সীমানা চিহ্নিত করতে প্রযুক্তির সহায়তা নিতে হবে।

ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন এম এম বাদশাহ, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোহসীন কবির। আরো বক্তব্য রাখেন— কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসেন, সাংবাদিক সিকদার নজরুল ইসলাম প্রমুখ।