নতুন আরো আবেদন শতাধিক কর্মকর্তার
আরফিন শরিয়ত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও দপ্তরে পদোন্নতির জন্য প্রয়োজন হয় কম্পিউটার চালানোর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে দ্রুতগতির ও আধুনিকায়ন করতে কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের পর সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে পদোন্নতি গ্রহণ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক কর্মকর্তা। রাজধানীর শাহবাগের এক নামসর্বস্ব কম্পিউটার সেন্টার থেকে এই সার্টিফিকেট নেন ঐ সব কর্মকর্তা। এসব কর্মকর্তার অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি তিন বছর পর পর পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ সময় তাদের পূর্ব পদের অভিজ্ঞতা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গোপনীয় প্রতিবেদন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ডিগ্রি ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে চাকরির পয়েন্ট দেওয়া হয়। পয়েন্টের দিক থেকে যে কর্মকর্তা এগিয়ে থাকেন, তার পদোন্নতি আগেই হয়ে যায়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পদোন্নতির জন্য কম্পিউটার চালনায় দক্ষতার কথা জানালে এসব কর্মকর্তা রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটের একটি কম্পিউটার সেন্টার থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে আসেন।
নামসর্বস্ব সার্টিফিকেটধারী এসব কর্মকর্তা জানান, তারা রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটের ‘কর্মযোগ সংস্থা’ কম্পিউটার সেন্টার থেকে কম্পিউটার বিষয়ে ডিপ্লোমা করে এসেছেন। অথচ এসব কর্মকর্তার কম্পিউটারে কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এসব কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী আজিজ সুপার মার্কেটে গিয়ে ঐ কম্পিউটার সেন্টারের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। খুঁজতে গেলে ঐ ঠিকানায় একটি কাপড়ের দোকান পাওয়া যায়। মার্কেটের দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ নামে একটি সংস্থার একটি রুম থাকলেও এক বছরেরও বেশি সময় আগে সংস্থাটি এখান থেকে চলে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কর্মকর্তাই সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে পদোন্নতি নিয়েছেন। তাদের অনেকেই কম্পিউটার চালাতেই পারেন না। নতুন করে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন শতাধিক কর্মকর্তা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র বলছে, ভুয়া সনদ নিয়ে নতুন করে আবেদন করা এসব কর্মকর্তার পদোন্নতি বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ঘটনায় যিনি সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছেন এবং যারা সার্টিফিকেট প্রদান করেছেন, দুই গ্রুপই সমানভাবে অন্যায় করেছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
