সাইবার দুনিয়ায় সহিংসতার শিকার হচ্ছেন নারীরা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৬

 ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন :নারীর মানবাধিকার’ সভা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সাইবার দুনিয়ায় নারীরা নানাভাবে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। তাদের প্রতি নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও সব নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষায় বিদ্যমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটির সংস্কার করে সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সাংবিধানিক নীতি অনুসারে রাষ্ট্রকে আরো মানবিক, উদার এবং অসাম্প্রদায়িক হতে হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : নারীর মানবাধিকার’ শীর্ষক অনলাইন মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই সভার আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ তে প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু ২০২১ সালে এসে আইনটি অপরাধ দমনে বিস্তৃত ভূমিকা রাখছে না। এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আইনের অপপ্রয়োগ মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব। তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধসহ সব অপরাধ দমন করতে হলে আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধে আইন প্রয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।

গেস্ট অব অনার হিসেবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম বলেন, নারীর প্রতি চলমান সাইবার অপরাধ, সাইবার বুলিং বন্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব ব্যবহারে কিছু টুল ব্যবহার করে এর সহজলভ্যতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, যেকোনো চলমান পরিস্থিতিতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার দায় থাকে সংগঠনের। তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে সামাজিক নিরাপত্তার কাজে লাগাতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি, সাংবাদিক ও লেখক শাহরিয়ার কবির বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতামূলক, অশ্লীল, কদর্যমূলক বক্তব্য দেওয়ার পরও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুসারে কাউকে গ্রেফতার করতে দেখা যায়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন কেন এখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষানীতি প্রণয়ন হলো না? কেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এখনো নারী উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন করা হয়নি।