স্পোর্টস রিপোর্টার
রোদ উঠেছিল, বৃষ্টির প্রভাব ছিল না। সূর্যের তাপ পেয়ে উইকেটে প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল। তাই তো একপেশে লড়াইয়ের বৃত্ত থেকে এক ঝটকায় বের হয়ে গেছে শেরেবাংলার উইকেট। বড় রানের ম্যাচ হয়নি, তবে এ মাঠের শেষ ৬ ম্যাচকে ছাপিয়ে গেছে গতকাল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে দলগত সর্বোচ্চই ছিল ১৩১ রান। গতকাল বাংলাদেশই তুলেছিল ৬ উইকেটে ১৪১ রান।
আগের ম্যাচের ৬০ রানে ধুঁকতে থাকা ব্যাটিং প্রদর্শনী পার হয়ে ব্যাটসম্যানরাও রানের দেখা পেয়েছেন। তাতেই বেশ জমেছিল ম্যাচ। দিনের আলোয় বাংলাদেশ দল ওপেনিংয়ে ভালো ভিত পেয়েও স্কোরটা বড় করতে পারেনি। বিরুদ্ধ কন্ডিশন, অনভিজ্ঞ কিউইরা দারুণ মানিয়ে নিয়েছে এবং তাদের সাহায্য করেছে ফ্লাড লাইটের আলোয় আরো জীবন্ত হয়ে উঠা উইকেট।
শেষ ওভারে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর গতকাল নিউজিল্যান্ডকে ৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে যাওয়া টাইগাররা টি-২০ র্যাংকিংয়েরও ছয় নম্বরে উন্নীত হয়েছে।
মুস্তাফিজের করা শেষ ওভারে ২০ রান দরকার ছিল ব্ল্যাক ক্যাপসদের। কিন্তু তারা নিতে পেরেছিল মাত্র ১৫ রান। যদিও চার বল পর নো বল করেছিলেন মুস্তাফিজ, তাতে চারও হয়েছিল। শেষ দুই বলে অবশ্য ৩ রানের বেশি দেননি কাটার মাস্টার। ল্যাথামের লড়াই ছাপিয়ে তাই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে ১৩৭ রান তুলেছে। ল্যাথাম অপরাজিত ৬৫ রান করেন।
ম্যাচের পর বাংলাদেশের অধিনায়ক জয়ের জন্য বোলারদের কৃতিত্ব দিয়েছেন। কারণ উইকেট দ্বিতীয় ইনিংসে আরো ব্যাটিং সহায়ক হয়ে উঠেছিল। তাই এ রানটা ডিফেন্ড করা গেছে বোলারদের কৃতিত্বে।
গতকাল মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘টি-২০ তে আপনি এমন ক্লোজ রান তাড়ার ম্যাচ দেখতে পাবেন। জিততে পেরে খুশি, এটাই বড় বিষয়।’
শেষ ওভারে ম্যাচটা জমে উঠার বিষয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘মুস্তাফিজ তার স্নায়ু ধরে রাখতে পেরেছে। আমার তার উপর পূর্ণ বিশ্বাস ছিল এবং সেটা করে দেখিয়েছে। মেহেদী খুব ভালো বোলিং করেছে, শুরুতে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছে। ফ্লাড লাইটের আলোতে উইকেট আরো ভালো হয়েছে।’
ম্যাচ হারলেও নিজের দলের উন্নতিতে সন্তুষ্ট নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। ল্যাথাম বলেছেন, ‘দারুণ একটা ম্যাচ ছিল। ম্যাচটা শেষ ওভারে নিয়ে যেতে পারাটাও অসাধারণ ছিল। আমার মনে হয় আমরা শেষ ম্যাচ থেকে অনেক শিখেছি এবং শেষ ওভারে গিয়ে জয়ের সুযোগ তৈরি করেছি।’
ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নেমে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছেন ল্যাথাম। ম্যাচের পর বলেছেন, এটাই ছিল দল থেকে দেওয়া তার ভূমিকা। তিনি বলেন, ‘আমার দায়িত্ব ছিল ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাট করা এবং বাকিরা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করবে। যাতে ম্যাচটা যত দূর সম্ভব নেওয়া যায়। আমি গর্বিত যেভাবে ছেলেরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’
স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি
টস :বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ইনিংস রান বল ৪ ৬
নাঈম ক ব্লান্ডেল ব রবীন্দ্র ৩৯ ৩৯ ৩ ০
লিটন ব রবীন্দ্র ৩৩ ২৯ ৩ ১
মুশফিক স্টা ল্যাথাম ব রবীন্দ্র ০ ১ ০ ০
সাকিব ক সিয়ার্স ব ম্যাকনকি ১২ ৭ ২ ০
মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ৩৭ ৩২ ৫ ০
আফিফ ক গ্র্যান্ডহোম ব প্যাটেল ৩ ৩ ০ ০
সোহান ক ইয়াং ব বেনেট ১৩ ৯ ১ ০
অতিরিক্ত (লেবা ২, ও ২) ৪
মোট (২০ ওভার, ৬ উইকেট) ১৪১
উইকেট পতন :১-৫৯ (লিটন, ৯.৩ ওভার), ২-৫৯ (মুশফিক, ৯.৪), ৩-৭২ (সাকিব, ১১), ৪-১০৬ (নাঈম, ১৫.৫), ৫-১০৯ (আফিফ, ১৬.২), ৬-১৪১ (সোহান, ২০)
বোলিং :প্যাটেল ৪-০-২০-১, ম্যাকনকি ৪-০-২৪-১, বেনেট ৪-০-৩২-১, রবীন্দ্র ৪-০-২২-৩, ব্রেসওয়েল ৩-০-৩০-০, সিয়ার্স ১-০-১১-০।
নিউজিল্যান্ড ইনিংস
ব্লান্ডেল ক সোহান ব মেহেদী ৬ ৮ ১ ০
রবীন্দ ব সাকিব ১০ ৯ ০ ১
ল্যাথাম অপরাজিত ৬৫ ৪৯ ৬ ১
ইয়াং ক সাইফউদ্দিন ব সাকিব ২২ ২৮ ৩ ০
গ্র্যান্ডহোম ক মুশফিক ব নাসুম ৮ ১০ ০ ০
নিকোলস ক মুশফিক ব মেহেদী ৬ ৫ ১ ০
ম্যাকনকি অপরাজিত ১৫ ১২ ০ ০
অতিরিক্ত (নো ১, ও ২) ৩
মোট (২০ ওভার, ৫ উইকেট) ১৩৭
উইকেট পতন : ১-১৬ (রবীন্দ্র, ২.৩ ওভার), ২-১৮ (ব্লান্ডেল, ৩.১) , ৩-৬১ (ইয়াং, ১০.৬), ৪-৮৫ (গ্র্যান্ডহোম ১৪.২), ৫-৯২ (নিকোলস, ১৫.৩)
বোলিং : মেহেদী ৪-০-১২-২, নাসুম ৩-০-১৭-১, সাকিব ৪-০-২৯-২, মুস্তাফিজ ৪-০-৩৬-০, মাহমুদউল্লাহ ১-০-৭-০, সাইফউদ্দিন ৪-০-৩৬-০।
ফল:বাংলাদেশ ৪ রানে জয়ী।
ম্যাচ-সেরা : মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
