যুবরাজই খাশোগি হত্যার নির্দেশদাতা :সিআইএ

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৪৯

যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ বিশ্বাস করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই তার দেশের সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সিআইএ’র ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তারা এই হত্যাকান্ডে যুবরাজের জড়িত থাকার প্রমাণ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, এরকম একটি হত্যাকান্ড ঘটানোর অভিযান কেবলমাত্র যুবরাজের অনুমতি নিয়েই চালানো সম্ভব।  তবে সৌদি আরব এরকম দাবিকে মিথ্যা বলে দাবি করেছে। তারা বলছে, যুবরাজ এই হত্যা পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স গতকাল শনিবার বলেছেন, খাশোগি হত্যাকারীদের বিচার হতে হবে। পাপুয়া নিউ গিনিতে এক সম্মেলনে অংশ নেয়ার সময় তিনি বলেন, এই হত্যার জন্য যারা দায়ী তাদের সবাইকে এর দায় নিতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়। তার মৃতদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তুরস্ক বলছে, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই হত্যার নির্দেশ এসেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, এই হত্যার নির্দেশ যে সরাসরি সৌদি যুবরাজের কাছ থেকে এসেছে, সেটি সিআইএ ধারণা করছে মূলত একটি ফোন কলের ভিত্তিতে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভাই প্রিন্স খালেদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি রাষ্ট্রদূত। তিনি নাকি খাশোগিকে ফোন করেছিলেন। যুবরাজের নির্দেশেই তিনি তাকে ফোন করে আশ্বাস দেন যে, ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে তিনি যেতে পারেন। এতে তার কোনও বিপদ হবে না। তবে রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালেদ বিন সালমান দাবি করেছেন, জামাল খাশোগির সঙ্গে এক বছর ধরে তার কোন যোগাযোগ হয়নি। এদিকে সিআইএ’র এই সর্বশেষ মূল্যায়ন সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কোন মন্তব্য করেনি।

এরদোয়ান ট্রাম্প

ফোনালাপ

খাশোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয় কোনও কিছু আড়াল না করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার এক ফোনালাপে এই দুই নেতা এ বিষয়ে একমত হন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট দফতরের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে কাতারের সংবাদমাধ্যম গালফ টাইমস এ খবর জানিয়েছে। সূত্রটিকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, ‘উভয় নেতাই জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের সব দিক আলোকপাত করতে ও ঘটনার কোনও বিষয় গোপন করতে না দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন’।