সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচন আজ

ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সংশয়!

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫৮

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন আজ। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএমর) মাধ্যমে এ উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের জানান, নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এদিকে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সর্বত্র আলোচনা চলছে। করোনা পরিস্থিতিসহ নানা কারণে ভোটের দিন কি পরিমাণ ভোটার উপস্থিত হন বা জয়ের মালা কার গলায় শোভা পাবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তবে কোনো কোনো ভোটারের অভিমত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে লাঙ্গল ও নৌকার মধ্যে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণের দিন কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে থাকবে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের ১৭ থেকে ১৮ জন সদস্য। আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিয়োজিত থাকবে ১৮ থেকে ১৯ জন সদস্য। এদের মধ্যে পুলিশ ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যের কাছে অস্ত্র থাকবে। তারা সার্বক্ষণিক ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা দেবেন। পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত মোবাইল ফোর্স ২১টি, স্ট্রাইকিং ফোর্স ১২টি, র্যাবের ১২টি টিম ও ১২ প্ল­াটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে।                 বিজিবির সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভোটের পর দিন রবিবার পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবে।

আজকের নির্বাচনে এ আসনে চার জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন— আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব (নৌকা), জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক (লাঙ্গল), বিএনপির বহিষ্কৃত প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরী (মোটরগাড়ি) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া (ডাব) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হাবিবের পক্ষে মঙ্গলবার সর্বশেষ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আতিকের পক্ষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু নির্বাচনি প্রচারণা চালান। বিএনপির বহিষ্কৃত প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরী প্রচারণা চালান তৃণমূল নেতাদের নিয়ে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ও ভোটকেন্দ্র ১৪৯টি। গত ১১ মার্চ করোনায় এ আসনটির সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী মারা গেলে আসনটি শূন্য হয়। তপশিল অনুযায়ী গত ২৮ জুলাই এই আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এর দুই দিন আগে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে আদালত। পরবর্তী সময়ে ৪ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে কমিশন।

জাপা প্রার্থীর বিরুদ্ধে টাকা

বিতরণের অভিযোগ

এদিকে উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে ভোটারদের মধ্যে অবৈধভাবে টাকা বিতরণের অভিযোগ এনেছেন একই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। শুক্রবার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী এম এমদাদুল ইসলাম বরাবর হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে এ লিখিত অভিযোগ করেন তার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ফারুক আহমদ। অভিযোগ পত্রে অর্থের বিনিময়ে ভোট ক্রয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।