১০ বছর আগে র্যাবের গুলিতে পা হারানো সেই লিমন বিয়ে করেছেন। কনে যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌর এলাকার সরখোলা গ্রামের জাহিদুল ইসলাম টিটোর মেয়ে রাবেয়া বসরী (১৯)। দুই ভাই-বোনের মধ্যে তিনি বড়। রাবেয়া এ বছর নওয়াপাড়া কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেবেন। শুক্রবার দুপুরে কনের বাড়িতে ২ লাখ টাকা দেনমোহরে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে লিমন হোসেন বর্তমানে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী প্রভাষক। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, গণবিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ফুয়াদ হোসেনের বাড়িও অভয়নগরের সরখোলা গ্রামে। তিনিই এই বিয়ের মধ্যস্থতা করেছেন।
লিমন বলেন, আমার এ পর্যন্ত আসার পেছনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশের সকল গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকার কমিশনের অবদান কখনো ভুলতে পারব না। এছাড়া ঝালকাঠির সাংবাদিকদের কথাও ভোলা যাবে না। আমার বিয়েতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আসতে চাইলেও অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি। তার কাছে দোয়া চেয়েছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্যই আইন বিষয়ে পড়েছেন বলে জানান লিমন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কথা জেনেও আমার স্ত্রী রাবেয়া বসরী আমাকে মনেপ্রাণে মেনে নিয়েছে। কনে রাবেয়া বসরী জানান, লিমন জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়েছে। সংগ্রাম করে নিজের ক্যারিয়ার গড়ছে। আমি সবকিছু জেনেবুঝেই বিয়ে করেছি। লিমন-রাবেয়া দম্পতি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
লিমনের বাবা তোফাজ্জেল হোসেন জানান, আমার ছেলেকে তো মেরেই ফেলেছিল। আল্লাহ তাকে বাঁচিয়েছেন। বিয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ওদের দুই জনের জন্য আপনারা সকলে দোয়া করবেন।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ বিকালে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নে নিজ বাড়ির পাশের একটি বাগানে নিয়ে লিমনের পায়ে গুলি করেন র্যাব সদস্যরা। এরপর লিমনসহ আট জনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও অস্ত্র রাখার অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন লিমনকে বাঁচাতে তার গুলিবিদ্ধ পা কেটে ফেলে চিকিত্সকরা। এরপর লিমনের মা বাদী হয়ে র্যাবের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ঝালকাঠি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে।
মামলা চলাকালীন সময় কারাগার হাসপাতালে থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যান লিমন। জামিনে বেরিয়ে ২০১৩ সালে পিরোজপুরের কাউখালী কাঠালিয়া পিজিএস বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ২০১৮ সালে ঢাকার সাভারে গণবিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গণবিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষা সহকারী পদে যোগদান করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আইন বিভাগের সহকারী প্রভাষক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন অদম্য লিমন হোসেন।
