টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সমাজসেবা অফিস থেকে মোবাইল কোম্পানি নগদের অ্যাকাউন্ট থেকে অসহায় ও দরিদ্র ভাতাভোগীদের পিন কোড জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। সমাজসেবা অফিসে টাকা তুলতে এসে মেসেজ অপশনে টাকা না পেয়ে ২২ হাজার অসহায় বয়স্ক নারী-পুরুষ, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমাজসেবা অফিসের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মোবাইল কোম্পানি অফিসের একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে এসব টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা এবং উপজেলার মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, আজগানা এবং বাঁশতৈল ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার বয়স্ক নারী-পুরুষ, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা পেয়ে আসছেন। প্রতিবন্ধীরা প্রতি মাসে ৭৫০ টাকা এবং বয়স্ক নারী-পুরুষ প্রতি মাসে ৫০০ হারে ব্যাংকের মাধ্যমে নিজ নিজ অ্যাকাউন্টে ভাতা পেয়ে থাকেন। প্রতি ছয় মাস অন্তর তাদের ভাতা দেওয়া হয়। জন প্রতি ৪ হাজার ৫০০ টাকা করে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক দরিদ্র ভাতাভোগীর টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র।
গোড়াই ইউনিয়নের নাজিরপটাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ অনিক হাসান অভিযোগ করেন, ইউপি চেয়ারম্যান আদিল খানের ফোন পেয়ে তার পিতা মো. আব্দুল লতিফ ও চাচা নুরুল আমীন প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলনের জন্য গত ২২ আগস্ট মির্জাপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যান। তারা আইডি কার্ড, কাগজপত্র ও মোবাইল ফোন সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে দিলে তিনি বলেন, তাদের নামের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল কিন্তু প্রতারক চক্রের সদস্যরা পিন কোড জালিয়াতি করে টাকা উঠিয়ে নিয়ে গেছে। একই অভিযোগ করেন মহেড়া ইউনিয়নের ডোকলাহাটি গ্রামের অসহায় বৃদ্ধা সালেহা বেগম। তারা টাকা না পেয়ে সমাজসেবা অফিসের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের মতো শত শত নারী-পুরুষ টাকা না পেয়ে সমাজসেবা অফিস থেকে ফিরে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমাজসেবা অফিসের একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মোবাইল কোম্পানি নগদের একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে এসব টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিষয়টির দিকে নজর দেওয়ার জন্য তিনি প্রধান মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।
১০ নম্বর গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আদিলুর রহমান খান আদিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনে অভিযোগ দিয়েছেন।
মির্জাপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল কোম্পানির কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
নগদের টাঙ্গাইল জেলা টেরিটরি কর্মকর্তা রিজওয়ান আলম বলেন, বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। মোবাইল অ্যাকাউন্ড থেকে যাদের টাকা খোয়া গেছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
