হারানো সন্তানকে ১০ বছর পর ফিরে পেলেন মা-বাবা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:০০

দীর্ঘ ১০ বছর আগে নিখোঁজ মুনসুর আলী তার মা-বাবার কাছে ফিরে এসেছেন। ছয় মাস বয়সে রেখে যাওয়া সন্তান তামিম ফিরে পেয়েছে তার বাবাকে। পুরো পরিবারের মধ্যে এখন আনন্দের বন্যা। তবে এত আনন্দের মধ্যেও একটা বিষাদের সুর সবাইকে কুরে কুরে খাচ্ছে। স্বামীর জন্য দীর্ঘ ৯ বছর অপেক্ষার পর মনসুরের স্ত্রী সন্তানকে রেখে অন্য একজনকে বিয়ে করে চলে গেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের হিজলজানী গ্রামে।

জানা যায়, দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান মুনসুর আলী (৩৫)। নিজেদের কৃষি জমিসহ অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। প্রায় ১০ বছর আগে ঢাকায় গিয়ে হঠাত্ নিখোঁজ হন তিনি। এর পর থেকে বৃদ্ধ বাবা শান্ত মিয়া ও লতিফা খাতুন সন্তানকে ফিরে পেতে অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছেন। ঘুরেছেন পির, ফকিরের দরবারেও।

কিছু দিন আগে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থেকে ধারণ করা এক ভিডিওচিত্র ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হয়, যেখানে দেখা যায়, মুনসুর আলী ভবঘুরে অবস্থায় সেখানে রয়েছেন। সেই সূত্র ধরে মুনসুর আলীর ছোট ভাই জাহাঙ্গীর ও তার ভাতিজা ঈশ্বরদীতে যান ৩০ আগস্ট। সেখানে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে খুঁজে পান তারা। মানসিক সমস্যা থাকলেও মুনসুর তার ছোট ভাইকে চিনতে পারেন। স্থানীয়রা জানান, ঐ লোককে তারা মন্টু মামা বলে ডাকতেন। তিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো চলতেন। এখানে তাকে তিন বছর ধরে দেখা যায়। রাতে হাটবাজার, রাস্তাঘাটে থাকতেন।

গত সোমবার সন্ধ্যায় মুনসুর আলী বাড়িতে ফিরলে পরিবারের সদস্যরা আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন। আশপাশের লোকজন খবর পেয়ে ভিড় করেন তার বাড়িতে। মুনসুর আলীর বৃদ্ধা মা লতিফা খাতুন হারানো ছেলেকে ফিরে পেয়ে জড়িয়ে ধরে খুশিতে কাঁদতে শুরু করেন। তার বাবা শান্ত মিয়া বলেন, আমার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। এরপরও মুনসুরকে আমরা কিছুতেই ভুলতে পারিনি। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আমাদের এত দিনের প্রার্থনা ছিল ছেলেটাকে যেন ফিরে পাই। মুনসুর কিছুটা সুস্থ এখন। তাকে পুরোপুরি সুস্থ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব।

তিনি জানান, মুনসুরের স্ত্রী চম্পা একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ৯ বছর ধরে স্বামীর জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু গত বছর তিনি অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন। এত আনন্দের মধ্যে এই বেদনাটাই এখন সবাইকে কষ্ট দিচ্ছে। স্ত্রী চলে যাওয়ার বিষয়ে মুনসুর আলী বলেন, ‘সে তো অনেক দিন অপেক্ষা করেছিল। তবে আর কিছুদিন ধৈর্য ধরলে এমনটা হতো না। আমি আমার মা-বাবা, সন্তান, ভাইবোন ও স্বজনদের ফিরে পেয়ে এখন ভীষণ খুশি।’