অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেতে কাজ করেন কৃষক ও দিনমজুর। কাজের ফাঁকে একসঙ্গে দুপুরের খাবারও সেরে নেন তারা জমির আইলে। এই দিন মজুররা একই অথবা ভিন্ন ভিন্ন গ্রাম থেকে আসেন। দেখা গেছে, জমির আইল বা গ্রামীণ রাস্তার পাশে তারা বসে যান সারিবদ্ধভাবে।
তারা মাঠে ধান কাটা অথবা ধানের গাছ রোপণ বা পাটের আঁশ ছড়াচ্ছেন খালবিলে। এদের বয়স ১৩ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীও রয়েছেন কেউ কেউ। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের দাউদপুর-বিরামপুর আঞ্চলিক সড়কের নবাবগঞ্জের দাউদপুরের হাসানপাড়া গ্রামের মাঠে দেখা মিলল এ ধরনের এক দৃশ্যের। পাশের পশ্চিম ফাজিলপুর, লাজেলপুর, ছোট গোপালপুর ও মালারপাড়া গ্রামের মিল্টন সরেন, মারতেলিনা সরেন, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রীমা সরেন, জুয়েল হেম্ব্রম, সোনামনি মার্ডি, সোনালী কিস্কু ও এলিজাবেথ বেসরাসহ অর্ধশতাধিক নারী ও পুরুষ কৃষিশ্রমিক খাবার খেতে বসেছিলেন একসঙ্গে। রাস্তার পাশে কেউ থালায়, কেউ বা গামলায় যেমন সুবিধে তেমনি করে ভাত ও তরকারি নিয়ে সাজিয়েছিলেন খাবার। এরা সবাই ভোররাতে রান্না করা খাবার এনেছিলেন। এদের কেউ এনেছিলেন মাছের তরকারি, কেউ বা নিরামিশ আবার কেউ ডিমের তরকারি। কারো কারো বাড়ি থেকে এসেছে রুটির সঙ্গে আলুভর্তা। খাবার ভাগাভাগি করেও নিচ্ছেন তারা। দেখে মনে হয় এ যেন এক নাটকের দৃশ্য। খাবার গ্রহণের সময় ওদের চোখেমুখে যেন খেলে যাচ্ছিল হাসির ঝিলিক। তারা জানান, বয়স ভিন্ন হলেও সবাই সবাইকে আদর করেন, সম্মান করেন। একজনের সমস্যা হলে আরেকজন খবর পাওয়া মাত্রই ছুটে যান তখনই। তারা সবসময় পাশে থাকতে চান একে অন্যের সুখে-দুঃখে।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষক ফিরোজ সুলতান বলেন, এলাকার দলবদ্ধ কৃষিশ্রমিক দিয়ে কাজ করালে একটি বিষয়ে নিশ্চিত থাকা যায় যে, তারা ঠিকঠাকভাবেই কাজ শেষ করবেন। আবার চুক্তির বাইরে তারা কখনো বেশি মজুরি দাবি করেন না। উপজেলার ৭ নম্বর দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. অব্দুল্লাহ হেল আজিম সোহাগ বলেন, এলাকার নারী ও পুরুষ কৃষিশ্রমিকরা হচ্ছেন আমাদের গর্ব। এরা যেমন কাজে ফাঁকি দেন না। এরা একে অপরের আত্মার আত্মীয়। কোনো দিন কেউ যদি খাবার না আনেন, তাহালে সবাই মিলে নিজেদের খাবার থেকে তার খাবার যোগান দেন।
