অবসরপ্রাপ্তদের অসম্মান করবেন না

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২৩

সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বাভাবিক নিয়মেই ৩০/৩৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর চাকরি থেকে অবসরে যান। অবসর গ্রহণের পর যে কর্মহীন নতুন জীবন শুরু হয়, তা অনেকের কাছেই দুর্বিষহ। শারীরিকভাবে সুস্থ ব্যক্তিরা অবসর গ্রহণের পরও কর্মক্ষম থাকেন; কিন্তু নতুন করে জীবন শুরু করার কোনো উপায় অনেকেই খুঁজে পান না। আর যাঁরা শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ, তাঁদের অবসর জীবন আরো দুঃসহ। পরিবার, সমাজ এমনকি তাঁদের দীর্ঘদিনের অতিপরিচিত কর্মস্থলেও তাঁরা আগের মতো সম্মান পান না। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একদিন যাঁরা তাঁদের অধীনেই কাজ করতেন, অবসরের পর তাঁরাই নানাভাবে অবজ্ঞা করেন। অথচ বর্তমানে যাঁরা কর্মরত আছেন, তাঁদেরও একদিন এই অবসর জীবনে যেতে হবে হবে।   

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবসরপ্রাপ্তদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে নানাভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। আমাদের জাতীয় জীবনের নানা সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করা হলে যে কোনো সমস্যা সমাধানে দেশ ও জাতি নানাভাবে উপকৃত হতে পারে। এছাড়া সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সমাজে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এই বয়স্ক ব্যক্তিরা যাতে তাঁদের জীবনের শেষ অংশটুকু সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন, তার ব্যবস্থা আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।                                

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর