নকল ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হোক

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২৫

মানুষ সুস্থতার মুখ দর্শনের আশায় যে ওষুধ সেবন করে, সেই ওষুধ নিজেই যদি হয় অসুস্থতার কারণ, তবে মানুষের করণীয় কী! বর্তমানে করোনা মহামারি চলাকালীন দেশ জুড়ে ভেজাল ওষুধের উত্পাদন ও সরবরাহ পূর্বের তুলনায় অধিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতকাল দেশে ভেজাল সাবান-শ্যাম্পু ইত্যাদি পণ্য  তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ার মধ্যে ঘটনা ঘটলেও এখন দেশে ভেজাল ওষুধ তৈরির কারখানার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ব্যাপার। এই ভেজাল ওষুধ তৈরির পেছনে কাজ করছে একাধিক চক্র। অথচ তাদের ভাবা উচিত, যেসব ভেজাল ওষুধ তারা তৈরি ও সরবরাহ করছে, সেসব ওষুধ অজান্তে তাদেরই আপনজনদের মধ্যে কেউ সেবন করতে পারে এবং এর পরিণাম সম্পর্কে নিশ্চয়ই উত্পাদন ও সরবরাহকারীরা অজ্ঞাত নন। এসব ভেজাল ওষুধ তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে আটা, ময়দা, সুজি ও বিভিন্ন রকম নিম্নমানের পণ্য। ভেজাল ওষুধের প্যাকেটগুলো এতটাই নির্ভুলভাবে সজ্জিত করা হয়েছে, যা দেখে সাধারণ মানুষ এগুলোকে ভেজাল পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করতে পারবে না।

কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে এরূপ খেলার কারণ কী? মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে যে ওষুধ সেবন করে, গুটি কয়েক অর্থলোভী সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার সামান্য এই আশ্রয়বস্তুর ওপরও আক্রমণ করছে। স্বল্প ব্যয়ে এসব ভেজাল, নিম্নমানের ওষুধ উত্পাদন করে তারা প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় নিম্ন কিন্তু তাদের উত্পাদনমূল্যের চেয়ে উচ্চমূল্যের বিনিময়ে সরবরাহ করে। অন্যদিকে ডিসপেনসারির কর্মীরা না জেনে কিংবা নিশ্চিতভাবে জানা সত্ত্বেও সেসব ভেজাল ওষুধ বাজারমূল্যের তুলনায় স্বল্পমূল্যে ক্রয় করে অধিক মূল্যে বিক্রি করে, যার দ্বারা ওষুধ ব্যবসায়ীরা সাময়িক লাভবান হয়, কিন্তু ক্ষতির শিকার হয় সাধারণ মানুষ । তাই এরূপ অন্যায় থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য ছোট-বড় সব ডিসপেনসারির মালিক ও কর্মীদের সতর্ক হতে হবে যে, কোনো কোম্পানি যদি তাদের কাছে বাজারমূল্যের তুলনায় কম মূল্যে ওষুধ বিক্রি করতে ইচ্ছুক থাকে, তবে সে ব্যাপারে প্রথমে অনুসন্ধান করে নিতে হবে। যেসব ডিসপেনসারি ইচ্ছাকৃতভাবে এসব ভেজাল ওষুধ সরবরাহ করছে, অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিভিন্ন ডিসপেনসারিতে রাখা ওষুধগুলো নকল বা মেয়াদোত্তীর্ণ কি না, এসব বিষয় নিরীক্ষণের জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। নকল পণ্যদ্রব্য, সেটা ওষুধ বা অন্য যাই হোক, এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেটদের দমন করার লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

দেশে ভেজাল ও নকল ওষুধ সরবরাহের ঘটনা আমরা অহরহ দেখে থাকি এবং করোনাকালীন এরূপ কর্মকাণ্ড অধিক বিস্তার লাভ করেছে, কিন্তু এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় না বলে এরূপ অপ্রত্যাশিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেখা যায়। তাই জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের দ্বারা এসব অন্যায় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।