সম্প্রতি বিতর্কিত বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক লেনদেনের কারণে ‘নগদ’-এর কয়েক হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। এসব লেনদেনের সঙ্গে জড়িত বেশকিছু অ্যাকাউন্টের তথ্য একাধিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি) ইতিমধ্যে এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গেছে, টাকা নিয়ে পণ্য সরবরাহ না করা, গ্রাহকের টাকা আত্মসাত্সহ নানা অভিযোগ রয়েছে ইভ্যালি, আলেশা মার্ট, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিং, সিরাজগঞ্জ শপিং, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, কিউকম, আদিয়ান মার্ট ও নিডস ডট কম বিডির বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ই-অরেঞ্জের ব্যাংক লেনদেন স্থগিত রয়েছে। এছাড়া ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, আলেশা মার্টসহ ১০টি ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অধিকাংশ ব্যাংক তাদের ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রি-পেইড কার্ডের লেনদেন বন্ধ রেখেছে। তাই এখন তারা মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক সেবায় (এমএফএস) লেনদেন করছে।
‘নগদ’ জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে কিছুসংখ্যক ‘নগদ’ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে হঠাত্ করে বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্বাভাবিক লেনদেন পরিলক্ষিত হচ্ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অধিক পর্যালোচনা ও লেনদেনের ধরন পরীক্ষা করে কিছু অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যাকাউন্টগুলোর তালিকা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ‘নগদ’ এর হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কাওসার সওকত আলী বলেন, নগদ প্রযুক্তিগতভাবে দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কারণে ‘নগদ’ এর প্ল্যাটফরমে কোনো ধরনের দুরভিসন্ধিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা দুরূহ। তাছাড়া লেনদেনকে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে তুলে আনার ফলে অপরাধমূলক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ যে অধিকতর সহজ হয়, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
