কেপলার এর সূত্র

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:০৩

মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক

সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)

ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট

গতকালের পর

গ্রহ এবং সূর্যের সংযোজক সরলরেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।

মানে? চন্দ্র বলল।

মানে হচ্ছে, সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহটি যদি একটা নির্দিষ্ট সময়ে A থেকে B বিন্দুতে যায়, আবার একই সময়ে C থেকে D বিন্দুতে যায় তখন সূর্য  ও AB এবং সূর্য ও CD দুটো ক্ষেত্রফল সমান হবে।

আর তৃতীয় সূত্রটি হলো আবর্তনকালের সূত্র। সূর্যের চারদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর গড় দূরত্বের ঘণফলের সমানুপাতিক। মানে হচ্ছে একটা গ্রহ সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে যদি T সময় লাগে, আর এদের মধ্যবর্তী দূরত্ব যদি R হয়, তাহলে T এর বর্গ, R এর ঘনফলের সমানুপাতিক। এভাবে একাধিক গ্রহের ক্ষেত্রে সমীকরণ প্রতিষ্ঠা করে গ্রহের দূরত্ব জেনে নিয়ে আবর্তনকাল বের করা যায়, আর এভাবেই কখন চাঁদ পৃথিবী আর সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করবে তা জানা যায়।

অণু বলল, কোপার্নিকাসের তত্ত্ব তো অনেকেই বিরোধিতা করল, কেপলার এর সূত্রের বিরোধিতা করেনি?

করেনি আবার! আক্ষেপের সুরে বললেন নীলকান্তবাবু। কেপলারের সূত্রও তাত্ক্ষণিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। গ্যালিলিও, রনদেকার্তের মতো বিজ্ঞানীরাও তাঁর আস্ত্রোনোমিয়া নোভা পুরোপুরি এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কেপলার এর শিক্ষক মিখায়েল মায়েস্টালন পর্যন্ত জ্যোতির্বিজ্ঞানে কেপলারের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে চাননি। কেউ কেউ আবার কিছুটা গ্রহণ করলেও সবগুলি গ্রহণ করতে চাননি। ফরাসি জ্যোতির্বিদ ইসমায়েল বুলিয়ালদুস (Ismael Bullialdus) এবং সেথ ওয়ার্ড উপবৃত্তাকার কক্ষপথের সূত্রটির সাথে একমত হলেন। কিন্তু ক্ষেত্রফলের সূত্রটি মানতে চাইলেন না। অনেকে আবার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কেপলারের তত্ত্ব পরীক্ষা করতে আগ্রহী ছিলেন। কেপলার নিজেও একটু অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। ১৬৩১ সালে  সূর্যের চারদিকে বুধ গ্রহের অতিক্রমের সময় ঠিক কোনদিন অতিক্রমণ ঘটবে তা বুঝতে না পেরে কেপলার পর্যবেক্ষকদেরকে নির্ধারিত দিনের একদিন আগে এবং একদিন পরেও আকাশে লক্ষ রাখতে অনুরোধ করেন। অবশ্য নির্ধারিত দিনেই বুধ গ্রহের অতিক্রমণ পরিলক্ষিত হয়। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো পরবর্তীতে আবিষ্কৃত নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রও কিন্তু কেপলারের আবর্তনকালের সূত্রকে সমর্থন করে।

এর মধ্যে কমলা চা-বিস্কুট নিয়ে এসে বসলেন।