ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিল (জিটিএফ) থেকে আগের চেয়ে সহজে ঋণ পাবে সরকারি ব্যাংকগুলো। সাধারণত, এ তহবিল থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ নিতে পারে। আর এ তহবিল ব্যবস্থাপনা করে থাকে বিভিন্ন ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার (এডি) শাখাগুলো। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি ব্যাংকের ঋণপ্রাপ্তি সহজের বিষয়টি সম্পর্কে বলা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জিটিএফ থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য অন্যতম শর্ত হলো, ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট ঋণের ১০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। অন্যদিকে ঋণ বা বিনিয়োগের সঞ্চিতি, মূলধন এবং তারল্য ঘাটতি থাকলে কোনো ব্যাংক অংশগ্রহণকারী ব্যাংক হিসেবে কাজ করতে পারবে না। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এসব নিষেধাজ্ঞা রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য এ শর্ত বহাল রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন এ নির্দেশনার ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে যে সব রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যবসা করে সে সব প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানাগুলোকে এখন থেকে পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে উদ্যোগ গ্রহণে সামর্থ্য হবে।
নীতিমালা শিথিল করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, এতে করে সহজশর্তে এবং স্বল্প সুদে সরকারি ব্যাংকের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঋণ পাওয়ার পথ সুগম হলো।
পরিবেশবান্ধব রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের জন্য ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) নামে তহবিল গঠন করে। তবে টেক্সটাইল ছাড়া অন্য খাতের কারখানা মালিকদের এ বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। ৩ হাজার ৭২০ কোটি টাকার তহবিল থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছাড় হয় মাত্র ৭৭৮ কোটি টাকা। যা মোট তহবিলের মাত্র ২১ শতাংশ।
২০১৬ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার নিয়ে এ তহবিল গঠন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ডলারের বর্তমান বিনিময় হারে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা।
প্রাথমিকভাবে এ তহবিল থেকে টেক্সটাইল ও চামড়া খাতের জন্য ঋণ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা থাকলেও পরবর্তী সময় সব ধরনের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। গত বছরের এপ্রিলে গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) কে বর্ধিত করে ২০০ মিলিয়ন ইউরো (২ হাজার ২৫ কোটি টাকা) যুক্ত করা হয়।
