সাত কলেজের জন্য রিকভারি প্ল¬্যান প্রয়োজন

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২৬

করোনা অতিমারিতে স্থবির শিক্ষাব্যবস্থা।  সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাও প্রায় কোণঠাসা। করোনার আগে ফলাফল বিপর্যয়, দীর্ঘ সেশনজটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল এই সাত কলেজ। করোনার কারণে বাড়তি এই ক্ষত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অপরিমেয় ক্ষতি করেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এতসব প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করা সত্যিই কঠিন ব্যাপার। করোনায় হওয়া ক্ষতি পূরণে কোভিড পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীবান্ধব নতুন নীতিমালা প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।  সুসংবাদ হলো, ইউজিসি এর মধ্যে তাদের আওতাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে একটি নীতিমালা প্রেরণ করেছে। অথাত্ কোভিডকালে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা ও বাস্তবতা অনুযায়ী একটি রিকভারি প্ল­্যান তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন একটি গাইডলাইন পাঠিয়েছে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এতে পুরোটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না পারলেও মোটামুটিভাবে সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। তবে সরকারি সাত কলেজে দুই লাখেরও বেশি  শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেও আদতে স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়নি বিধায় সাত কলেজের দায় স্বভাবতই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ওপর বর্তায় না। দায় নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও। সাত কলেজের নীতিনির্ধারণী সম্পূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত। এমন বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি প্রয়োজন। নানান বৈষম্য আর প্রতিকূলতার মাঝে করোনাকালীন ক্ষতি যেন বৃহদাকার সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে। বাকি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সাত কলেজের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়, যাতে করে দীর্ঘ বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।

মোহাম্মদ রায়হান

শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা