আমিনুল ইসলাম হিরু, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা
যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত এবং বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে রৌহাদহ ক্রসবাঁধ ও নির্মাণাধীন রিং বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। সাত গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। এদিকে বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে রৌহাদহ কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মাইকিং করে গ্রামবাসীদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়। সারিয়াকান্দি পয়েন্টে বৃহস্পতিবার যমুনায় পানি বিপত্সীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
রিংবাঁধ ও ক্রোসবাঁধ ভেঙ্গে নদীর পানি জনপদে প্রবেশ করলে রৌহাদহ, ফকিরপাড়া, কামালপুর, ঘুঘুমারি, ইছামারা,হাওড়াখালি ও গোদাখালি গ্রামের ৩ হাজার বিঘা জমির উঠতি ফসল আমন, বীজতলা ও অন্যান্য ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে যাবে। একই সঙ্গে গ্রামের ৪ হাজার বাড়িঘর, ১১টি মসজিদ, তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কমিউনিটি সেন্টার ও দুটি মাজার পানিতে নিমজ্জিত হবে। বৃহস্পতিবার দুর্গত এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক-উত্কণ্ঠা দেখা গেছে। ফকিরপাড়ার নুরু ইসলাম (৬৫), আফজল প্রামাণিক (৪৯), মোয়াজ্জেম হোসেন (৭১), রৌহাদহ গ্রামের রিনা বেগম (৪৫), খাতেমুন বেওয়া (৫৪) জানান, নদীতে পানি বাড়তে থাকায় আমাদের দুশ্চিন্তাও বেড়ে গেছে। এখন ঘরের জিনসপত্র, গরু-ছাগল নিয়ে কোনো জায়গায় আশ্রয় নেব ভেবে পাচ্ছি না।
গ্রামবাসী জানায়, প্রতি বছর বন্যায় জানমাল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পওয়ার জন্য দুই বছর আগে থেকে তারা তত্কালীন সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের কাছে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সে অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাইড পরিদর্শন ও কয়েক দফা সার্ভে করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ আর হয়নি। অবশেষে এক মাস আগে থেকে গ্রামবাসী স্বেচ্ছায় ও সম্মিলিতভাবে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাসকিয়া জানান, এমপি, গ্রামের মানুষ ও দলীয় লোকজনের উদ্যোগে রিংবাঁধ নির্মিত হচ্ছে। রৌহাদহ ক্রসবাঁধের বেলমাউথ থেকে টিটুর মোড় পর্যন্ত এই রিং বাঁধের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০০ মিটার। এদিকে প্রবল পানির চাপে রৌহাদহ ক্রস বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদাররা জরুরিভিত্তিতে বাঁশের পাইলিং করে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান ইত্তেফাককে জানান, প্রয়াত নেতা আব্দুল মান্নান এমপি এখানে বাঁধ নির্মাণের জন্য গ্রামবাসীদের নিয়ে একাধিকবার মিটিং করেছিলেন। কিন্তু গ্রামবাসী তখন জমি দিতে রাজি হয়নি বলে বাঁধ নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এখন তারা জমি দিতে সম্মত হওয়ায় আমরা চাঁদা তুলে দলীয়ভাবে বন্যা ঠেকানোর মতো বাঁধ তৈরি করে দিচ্ছি। তিনি বলেন, শুস্কো মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ঐ রিং বাঁধ নির্মাণে আমরা টেকনিক্যাল সহায়তা দিচ্ছি। মানুষের উপকার হলে বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে এখানে বাঁধ নির্মানের চিন্তাভাবন রয়েছে।
