আত্মতুষ্টিতেই কি ডুবল বাংলাদেশ?

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৪

স্পোর্টস রিপোর্টার

টানা দুটি সিরিজ জয়ের স্মৃতি নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দলটার সঙ্গে সিরিজেও এসেছিল টানা দুই জয়। গতকাল ব্ল্যাক ক্যাপদের ১২৮ রানে বেঁধে রেখেছিলেন বোলাররা। এমন মঞ্চ পেয়েই যেন আত্মতুষ্টি ভর করল ব্যাটিং লাইনে। আয়েশি ব্যাটিংয়ের চেষ্টায় ছুটে গেলেন ব্যাটসম্যানরা। ১২৯ রানের ছোট্ট টার্গেটটা পাড়ি দেওয়ার আবশ্যক কাজটা তাই পর্বতসম চ্যালেঞ্জ হয়ে গেল।

মুশফিকুর রহিম ছাড়া সবাই দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করার কথা ভুলে বসেছিলেন। লিটন দাস, সাকিবরা তেড়েফুড়ে মারার চেষ্টা করেছেন। দায়িত্বহীনতার ছাপ ছিল মাহমুদউল্লাহ, আফিফ, সোহান, মেহেদীদের ব্যাটিংয়েও। চেনা কন্ডিশনে স্পিনারদের উইকেট দিয়ে আসলেন সবাই। নিজেদের অস্ত্রেই যেন ঘায়েল হলো বাংলাদেশ।

গতকাল সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫২ রানে হেরে গেছে মাহমুদউল্লাহর দল। দারুণ জয়ে সিরিজে ফিরেছে কিউইরা।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও বললেন, দ্রুত উইকেট হারানোর কারণে ও জুটি না হওয়ায় এমন হার। পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল তিনি বলেছেন, ‘ওদেরকে ১৩০ রানে বেঁধে রেখে বোলাররা দারুণ কাজ করেছে। আমরা ভালো শুরু করেছিলাম কিন্তু নিয়মিত উইকেট হারিয়েছি। জুটির অভাব ছিল আমাদের ব্যাটিংয়ে। আশা করি, আমরা ঘুরে দাঁড়াব। আরো দুটি ম্যাচ আছে। আশা করি, পরের ম্যাচেই সিরিজ জিতব।’

নিউজিল্যান্ডের স্পিনাররাই চিত্রনাট্য বদলে দিয়েছেন। তাদের দখলে ৮ উইকেট। অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার অ্যাজাজ প্যাটেল ১৬ রানে ৪টি, অফস্পিনার ম্যাককনকি ৩টি, রবীন্দ্র, কুগেলেইন, গ্র্যান্ডহোম ১টি করে উইকেট নেন।

ব্যাটসম্যানদের নির্ভার, আত্মতুষ্টিতে ভোগার চিত্র স্পষ্ট ছিল ইনিংস জুড়ে। প্রথম দুই ওভারেই আসে ১৫ রান। তৃতীয় ওভারে ম্যাককনকির দুই বলে দুটি চার মারলেন লিটন, পঞ্চম বলে আবারও প্রাণপণে সুইপ খেলতে গিয়ে এলবির ফাঁদে পড়েন তিনি।

অ্যাজাজ প্যাটেলের করা চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে মেহেদী ১ রান করে ক্যাচ দেন। চারে এসে সাকিব উইকেটে স্থায়ী হয়েছেন মাত্র ২ বল। নিজের প্রথম বলেই সজোরে ব্যাট চালান তিনি। পরের বলটি ওয়াইড। পঞ্চম বলে আকাশে বল তুলে দেন।

কাভারে খেলতে গিয়েছিলেন নাঈম শেখ। বল তার ব্যাটে লেগে স্ট্যাম্পে আঘাত হানে। দশম ওভারে আবারও অ্যাজাজ প্যাটেলের জোড়া আঘাত। দ্বিতীয় বলে কাভারে ক্যাচ দেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ঠিক পরের বলেই বোল্ড হন আফিফ।

৪৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকেই ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৫৭ রানে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে সোহান আউট হন লংঅনে ক্যাচ দিয়ে। মুশফিক একপ্রান্ত আগলে থাকলেও ২ বল বাকি থাকতে ৭৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। টি-২০ তে যা বাংলাদেশের যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। মুশফিক অপরাজিত ২০, লিটন ১৫, নাঈম শেখ ১৩ রান করেন। অ্যাজাজ প্যাটেল ম্যাচ সেরা হন।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন সংগ্রহ

রান          প্রতিপক্ষ                 ভেন্যু                সাল

৭০          নিউজিল্যান্ড             কলকাতা            ২০১৬

৭৬          নিউজিল্যান্ড             অকল্যান্ড           ২০২১

৭৬       নিউজিল্যান্ড      ঢাকা            ২০২১

৭৮          নিউজিল্যান্ড             হ্যামিল্টন           ২০১০

৮৩          শ্রীলঙ্কা                   জোহানেসবার্গ     ২০০৭

স্কোরকার্ড

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড, ৩য় টি-টোয়েন্টি

টস: নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ড                             রান বল  ৪   ৬

অ্যালেন ক মাহমুদউল্লাহ ব মুস্তাফিজ           ১৫  ১০   ৩    ০

রবীন্দ্র ব মাহমুদউল্লাহ                              ২০  ২০   ২     ০

ইয়াং এলবিডব্লিউ সাইফউদ্দিন                  ২০  ২০   ৩    ০

গ্র্যান্ডহোম এলবিডব্লিউ সাইফউদ্দিন            ০    ২     ০    ০

ল্যাথাম ক অ্যান্ড ব মেহেদী                        ৫    ৯     ০    ০               

নিকোলস অপরাজিত                              ৩৬  ২৯   ৩    ০

ব্লান্ডেল অপরাজিত                                  ৩০  ৩০  ৩    ০

অতিরিক্ত (ও ২)                                    ২    

মোট (২০ ওভার, ৫ উইকেট)                    ১২৮

উইকেট পতন: ১-১৬ (অ্যালেন, ২.১ ওভার), ২-৪৬ (ইয়াং, ৬.৪), ৩-৪৬ (গ্র্যান্ডহোম, ৬.৬), ৪-৫৮ (রবীন্দ্র ৯.৩), ৫-৬২ (ল্যাথাম, ১০.৫)।

বোলিং: মেহেদী ৪-০-২৭-১, নাসুম ২-০-১০-০, মুস্তাফিজ ৪-১-২৯-১, সাকিব ৪-০-২৪-০, সাইফউদ্দিন ৪-০-২৮-২, মাহমুদউল্লাহ ২-০-১০-১।

বাংলাদেশ

নাঈম ব রবীন্দ্র                                      ১৩  ১৯   ২     ০

লিটন এলবিডব্লিউ ম্যাকনকি                     ১৫  ১১   ৩    ০

মেহেদী ক নিকোলস ব প্যাটেল                  ১     ৪     ০    ০

সাকিব ক ম্যাকনকি ব প্যাটেল                   ০    ২     ০    ০

মুশফিক অপরাজিত                                ২০  ৩৭  ০    ০

মাহমুদউল্লাহ ক নিকোলস ব প্যাটেল           ৩    ৭     ০    ০

আফিফ ব প্যাটেল                                  ০    ১     ০    ০

সোহান ক ব্লান্ডেল ব ম্যাকনকি                   ৮    ১১   ০    ০

সাইফউদ্দিন এলবিডব্লিউ                         ৮    ১১   ১     ০

নাসুম ব কুগেলেইন                                 ০    ৫     ০    ০

মুস্তাফিজ ক ব্রেসওয়েল ব গ্র্যাান্ডহোম        ৪    ১০   ০    ০

অতিরিক্ত (লেবা ১, ও ৩)                        ৪

মোট (১৯.৪ ওভার, অলআউট)                  ৭৬

উইকেট পতন : ১-২৩ (লিটন, ২.৫), ২-২৪ (মেহেদী, ৩.৩), ২-২৫ (সাকিব, ৩.৫), ৪-৩২ (নাইম, ৭), ৫-৪৩ (মাহমুদউল্লাহ, ৯.২), ৬-৪৩ (আফিফ, ৯.৩),  ৭-৫৭ (সোহান, ১৩.১), ৮-৬৬ (সাইফউদ্দিন, ১৫.৪), ৯-৭০ (নাসুম, ১৭.২) ১০-৭৬ (মুস্তাফিজ, ১৯.৪)।

বোলিং: ডাফি ৪-০-১৫-০, প্যাটেল ৪-০-১৬-৪, ম্যাকনকি ৪-০-১৫-৩, রবীন্দ্র ৪-০-১৩-১, কুগেলেইন ৩-০-১৪-১, গ্র্যান্ডহোম ০.৪-০-৩-১।

ফল :নিউজিল্যান্ড ৫২ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা :অ্যাজাজ প্যাটেল।