স্পোর্টস রিপোর্টার
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গত দেড় যুগ ধরে উইকেট কিপিংয়ে বাংলাদেশের নিয়মিত মুখ মুশফিকুর রহিম। সর্বশেষ দুটি সিরিজে তার অনুপস্থিতিতে কিপিংয়ে দারুণ পারফরম করেছিলেন নুরুল হাসান সোহান। সুযোগ পেয়েই নিজেকে দেশের সেরা প্রমাণ করেছেন সোহান। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের আগেই তাই মধুর সমস্যায় পড়ে যায় বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট।
মুশফিক-সোহান দলে আছেন, কিপিং করবে কে? সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে সমাধান দিয়েছিলেন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে সোহান ও পরের দুটি ম্যাচে মুশফিক কিপিং করার কথা।
কিন্তু গতকাল সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে কোচ-অধিনায়কের কথার প্রতিফলন দেখা যায়নি। কিপিং করেননি মুশফিক। ম্যাচে উইকেটের পেছনে দায়িত্ব পালন করেছেন সোহান। আগের দুই ম্যাচের মতোই ফিল্ডিং করেছেন মুশফিক। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে চারটি ক্যাচ নিয়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সি এ ক্রিকেটার।
কিপিং নিয়ে ভাগাভাগির এ বিষয়ে দেশ জুড়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। গতকাল মুশফিকের কিপিং না করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘এটা টিম ম্যানেজমেন্টের বিষয়। কাকে দিয়ে তারা কিপিং করাবে। আর একাদশ তো অপরিবর্তিত। আগে সিরিজ জিতুক। পরে হয়তো পরিবর্তন হতেও পারে।’
মুশফিক যে কিপিং করবেন না, সেই আভাস গত শনিবারই দেখা গিয়েছিল। কারণ ঐচ্ছিক অনুশীলনে এসে শুধু ব্যাটিং করেছেন তিনি। কিপিং অনুশীলনই করেননি অভিজ্ঞ এ ক্রিকেটার। কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে উইকেটের পেছনে তাকে আর না-ও দেখা যেতে পারে। গতকাল ম্যাচ শেষে তেমন ইঙ্গিতই দিলেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তিনি বলেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে মুশফিকের সঙ্গে আমি কথা বলেছিলাম, দ্বিতীয় ম্যাচের পর ওর কিপিং করার কথা ছিল। কিন্তু মুশফিক আমাকে বলেছে, সে সম্ভবত আর টি-টোয়েন্টিতে কিপিং করতে চায় না।’
গতকালসহ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৮৯ ম্যাচের ৮০ ইনিংসে কিপিং করেছেন মুশফিক। তার সর্বমোট ডিসমিসাল ৬১টি (৩২ ক্যাচ, ২৯ স্ট্যাম্পিং)। যা বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ।
