অযত্ন-অবহেলায় ‘প্রধানমন্ত্রীর উপহারের’ বাস

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৪৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আরিফুজ্জামান উজ্জল, জাবি সংবাদদাতা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রধানমন্ত্রীর ‘উপহার’ হিসেবে দেওয়া ছয়টি বাস অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে। এছাড়া ছোট-বড় মিলে আরো কয়েকটি বাসের বেহাল দশা। মেরামতের উদ্যোগ তো নেই-ই, বরং উন্মুক্ত জায়গায় বাসগুলো ফেলে রাখায় চুরি হচ্ছে বাসের মূল্যবান যন্ত্রাংশ। এছাড়া বাসগুলোতে নিয়মিত বসছে বহিরাগতদের মাদকের আড্ডা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল এলাকায় খোলা মাঠে পড়ে আছে বাসগুলো। বাসগুলোতে জমেছে লতাপাতা আর ধুলোবালুর আস্তরণ। নেই জানালার কাচ, ওলট-পালট ভেতরের সিট, নষ্ট চাকার টায়ারও। এমনকি ইঞ্জিনসহ দামি ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের কিছুই অবশিষ্ট নেই বাসের বডিতে। তবে বাসগুলোর কিছু সিট অক্ষত রয়েছে। সেগুলোতে বসে মাদক সেবন করছেন ১৫ থেকে ২০ জন বহিরাগত।

জানা যায়, ২০১১ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি বাস উপহার দেন। এর কিছুদিন পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ‘প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে’ লেখা সংবলিত আরো চারটি বাস জাবির পরিবহন পুলে পাঠায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ছয়টি বাসই উপহারস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়েছেন। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই পরে পাঠানো চারটি বাসের ভাড়া দাবি করে বিআরটিসি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বাসগুলো উপহার দাবি করে ভাড়া পরিশোধের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে বিআরটিসিকে চিঠি পাঠায়। তবে চিঠির কোনো সদুত্তর না দিয়ে পরে আবারও ভাড়ার তাগিদ দিয়ে চিঠি দেয় বিআরটিসি। এ পর্যন্ত ভাড়া বাবদ প্রায় দেড় কোটি টাকা দাবি করেছে বিআরটিসি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাসগুলো উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, তখন একেকটি বাসের দাম ছিল প্রায় ৩২ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ছয়টি বাসের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি টাকা।

এদিকে বিশমাইল এলাকার এক দোকানদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাসগুলো পড়ে আছে। ফলে বাসগুলো মাদকসেবীদের জন্য নিরাপদ স্থান হয়ে উঠেছে। তাদের কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। প্রতিদিন কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় যুবকেরা মাদক সেবন করতে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আলী আজম তালুকদার বলেন, ‘উপহারের দুটিসহ পরিত্যক্ত বাসগুলো সরকারি নিয়মে বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা ছিল না। আমরা নীতিমালা তৈরির পাশাপাশি একটি কমিটিও গঠন করেছি। নীতিমালাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে অনুমোদন পেলে কমিটির সদস্যরা যাচাই করবেন, কোন বাসগুলো ব্যবহারযোগ্য আর কোনগুলো অকেজো। তাদের প্রতিবেদন পেলেই অকেজো বাসগুলো নিলামে দিয়ে দেব। আশা করি, এ বছরের মধ্যে অকেজো বাসগুলো সরকারি নিয়ম মেনে বিক্রি করতে পারব।’

বাসগুলোতে বসে মাদক সেবনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘বিশমাইল এলাকাটা একটু দূরে হওয়ায় সব সময় খবর পাই না। তবে যখনই খবর পেয়েছি, তখনই গিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি।’