মানুষের আহাজারি পরিবেশটাকে ভারি করে তুলেছে। দেওয়ালে দেওয়ালে পুড়ে যাওয়া শ্রমিকের লাশ নিয়ে স্বজনের কান্না। উঠে এসেছে পুড়ে যাওয়া ভবন, ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা শ্রমিকের স্যান্ডেল, তালা, আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের তত্পরতা, এক কিশোরশ্রমিকের হাতে লেখা কবিতার খাতা প্রভৃতি। গত জুলাইয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুডস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো উঠে এসেছে দেওয়ালে। ফ্রেমে বাঁধা পোড়া লাশের ছবি। এই অগ্নিকাণ্ডে ৫৪ জন শ্রমিক পুড়ে অঙ্গার হন। ছবির পাশাপাশি প্রদর্শনীতে দেখানো হয়েছে ১৯৯০ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১৭টি অগ্নিকাণ্ড ও শ্রমিক হতাহতের সংখ্যা।
গত শনিবার দৃকের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে হাশেম ফুডসে শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ‘হাশেম ফুডসে ঝলসানো প্রাণ’ শিরোনামে প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ছবিগুলো তুলেছেন দৃকের আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, সুমন পাল, ইশতিয়াক করিম ও পারভেজ আহমেদ।
প্রদর্শনীতে ৩৬টি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। রয়েছে অগ্নিকাণ্ডের সময়ের ভিডিও। এছাড়া ডিজিটাল স্ক্রিনে কারখানা ভবনটি পুড়ে যাওয়ার পরে অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। রয়েছে নিহত শ্রমিকদের ছবি। এর পাশাপাশি ইন্সটলেশন আর্টের মাধ্যমে পোড়া কারখানার ভয়াবহতাকে তুলে আনা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার। বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ও দৃকের পরিচালক আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন শিল্পী ও সংগঠক বীথি ঘোষ ও আলোকচিত্রী সুমন পাল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহিদুল আলম বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ভিন্নভাবে পালন করতে চেয়েছি। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে কলকারখানায় কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকার ও বিচারব্যবস্থার চলমান উদাসীনতাকে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই।’
এছাড়া কারখানায় পুড়ে মারা যাওয়া উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ইয়াসিনের কবিতা স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। লেখাপড়ার পাশাপাশি সে কাজ করত হাশেম ফুডসে। তার কবিতা পাঠ করে শোনান শহিদুল আলম।
প্রদর্শনীটি চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পান্থপথের দৃক গ্যালারিতে চলছে এ প্রদর্শনী। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
