কুলাউড়ায় ট্রেন-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে দুই জনের মৃত্যু

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২২

সিলেটের কুলাউড়ায় ট্রেনের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে শিশুসহ দুই জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আইনজীবীসহ সড়কে ঝরেছে আরো ছয় জনের প্রাণ। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে অটোরিকশা ও ট্রাক্টরের সংঘর্ষে তিন জন, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ট্রাক-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ট্রাকের চালক ও সহকারী এবং মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছে।

সিলেট অফিস ও কুলাউড়া সংবাদদাতা জানান, ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা পারাবত ট্রেনের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে শিশুসহ দুই জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো পাঁচ জন। আহতদের উদ্ধার করে সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি  হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকার একটি রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন ফরিদ উদ্দিন (৪৫) ও শিশু আশিক (৪)। পুলিশ জানায়, হতাহতদের বাড়ি সিলেট শহরের কাজীটোলা ও লোহারপাড়া এলাকায়। সিলেট রেলওয়ে পুলিশের সুপার শেখ শরিফুল ইসলাম জানান, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সবাই মাইক্রোবাসে করে সিলেট থেকে কুলাউড়া যাচ্ছিলেন। যে স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে কোনো রেলক্রসিং বা রেলগেট নেই। অবৈধ ক্রসিং দিয়ে অসাবধানতাবশত পার হতে গিয়ে এই  দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রেলওয়ের কুলাউড়া স্টেশনের মাস্টার মুহিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় কিছু সময় রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। পরে আবার সচল হয়। কুলাউড়া থানার ওসি বলেন, এটি অরক্ষিত রেল ক্রসিং। এলাকাবাসী নিজেদের সুবিধার জন্য এটি  তৈরি করলেও নিয়মিত দেখভালের কোনো লোক নেই।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ট্রাক্টরের সংঘর্ষে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও কলেজছাত্রসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরো তিন জন। রবিবার সকালে কুড়িগ্রামের ধরলা সেতুর পূর্ব প্রান্তের কুড়ারপাড় নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন—কলেজছাত্র হাবিবুল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হকের  স্ত্রী রাবেয়া খাতুন ও নুর আলী। জানা যায়, রোববার সকালে নাগেশ্বরীগামী বৈদ্যুতিক খুঁটি পরিবহনকারী একটি ট্রাক্টর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে হাবিবুল্লাহ ও রাবেয়া খাতুন নামের দুই অটোযাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নুর আলী নামে অপর যাত্রীর।

দেলদুয়ার (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, রবিবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উপজেলার ডুবাইল এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক ও তার সহকারী নিহত হয়েছেন। নিহত ট্রাকচালক মমতাজ মিয়া দিনাজপুর সদরের চপরামপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে। নিহত ট্রাকচালকের সহকারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা টিনভর্তি একটি ট্রাক টাঙ্গাইলের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ডুবাইল এলাকায় পৌঁছালে অপর একটি ট্রাক একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। এ সময় টিনভর্তি ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজনের ওপর উলটে যায়। মাইক্রোবাসটিও দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ঐ ট্রাকের চালক মমতাজ মিয়া ও তার সহকারী। গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল হক জানান, দুর্ঘটনাকবলিত দুটি ট্রাক ও মাইক্রোবাসটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার সিরাজদিখানের ছাতিয়ানতলী এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মীর জাহিদ হাসান জনি নামের এক আইনজীবীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জে আদালতের কাজ শেষে শ্রীনগরের বালাশুরের নিজ বাড়ির উদ্দেশে যাওয়ার পথে অটোর ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি শ্রীনগরের বালাশুর গ্রামের রঞ্জু মীরের ছেলে।