সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী বছরের শেষের দিকে রাজধানীর কাওলা থেকে তেজগাঁও রেল স্টেশন পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, ২০২২ সালের ডিসেম্বর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বিমানবন্দরের দক্ষিণ কাওলা থেকে তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এটি চালু হলে ঢাকা শহরের যানজট অনেকাংশে কমবে। পাশাপাশি এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে জিডিপিতে।
গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর বনানী এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। পুরো প্রকল্পটি চালু হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটবে। দীর্ঘপথ অল্প সময়ের মধ্যেই যাতায়াত করা যাবে। পথে কারো অযথা সময় নষ্ট হবে না। এসময় সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৩০ দশমিক ৫ ভাগ হয়েছে বলে জানান তিনি। আর কাওলা থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত অংশে শেষ হয়েছে ৬০ ভাগ কাজ।
রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের তিনটি পিলার নির্মাণ নিয়ে জটিলতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রকল্পের কোথাও কোনো জটিলতা থাকলে তা সবার সমন্বয়ের মাধ্যমে বসে সমাধান করা হবে। নকশায় জটিলতা থাকলে তার সমাধান করেই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ এগিয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে মগবাজার রেললাইন থেকে কুতুবখালী যাওয়ার পথে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের পূর্বদিকে জায়গা নিয়ে রেলওয়ের ‘ঢাকা-টঙ্গী রেলপথে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েল গেজ লাইন নির্মাণ’ প্রকল্পের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়েছে ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি। নকশা অনুযায়ী এক্সপ্রেসওয়ের একটি পিলারের জন্য জায়গা পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। শাজাহানপুর ফুট ওভার ব্রিজের কাছে এক্সপ্রেসওয়ের পিলারের জন্য যে জায়গা ছিল, সেখানে রেলওয়ে প্রকল্পের দুটি রেল ট্র্যাক স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রেলওয়ে সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান সেতুমন্ত্রী।
২০১৭ সালে গৃহীত হয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প। ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সময় নির্ধারিত থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে কাজ পিছিয়ে পড়ে। এখন ২০২২ সালের মধ্যে কাওলা থেকে তেজগাঁও রেলস্টেশন হয়ে মগবাজার পর্যন্ত কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
