ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২৫

আজ সোমবার সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯৭২ সালের আজকের এই দিনে ভারতের মাইহার রাজ্যে মদীনা ভবনে ১১০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। পাক-ভারত উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতকে ক্ষণজন্মা এই শিল্পী  নিজ সাধনাবলে বিশ্ববাসীর দরবারে মহিমান্বিত রূপে তুলে ধরেন। তিনি ১৮৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার  নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো আজও (৬ সেপ্টেম্বর) আলাউদ্দিন  খাঁ স্মৃতি সংসদ ও শিবপুর আলাউদ্দিন খাঁ মহাবিদ্যালয়, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দোয়া, মিলাদ মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। 

১৯১৮ সালে তিনি ভারতের মাইহারে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ভারতের সংগীত একাডেমি পুরস্কার পান। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে একাডেমির ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে ‘পদ্মভূষণ’ ও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ‘পদ্মবিভূষণ’ এবং ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে তিনি বিশ্বভারতী কর্তৃক ‘দেশিকোত্তম’ উপাধিতে ভূষিত হন। ভারতের দিল্লি­ ও বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে আজীবন সদস্যপদ দান করে। তিনি অসংখ্য গুণী শিষ্য রেখে গেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম পুত্র আলী আকবর খাঁ, জামাতা পণ্ডিত রবিশংকর, কন্যা রওশন আরা ওরফে অন্নপূর্ণা, ভ্রাতুষ্পুত্র বাহাদুর খাঁ, তিমির বরণ, শ্যাম গাঙ্গুলি, নিখিল ব্যানার্জি, শরণ রাণী প্রমুখ। কিন্তু তার নিজ গ্রামে তার স্মৃতিগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না। সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মৃত্যুর ৪৯  বছর পেরিয়ে গেলেও সংরক্ষণের অভাবে ওস্তাদের নিজ জন্মভূমি নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে তার নিজ হাতে গড়া স্থাপনা নিশ্চিহ্ন প্রায়। অন্যদিকে সংগীত বিদ্যালয়, পর্যটনকেন্দ্র, অতিথি শালা, মিলনায়তন গড়ে তোলার জন্য দানকৃত নির্ধারিত জায়গাটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।  মহান এই গুণিজনের জন্মভূমিতে তার স্মৃতিকে লালন করার জন্য সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।