ঢাকা উত্তর সিটিতে লার্ভা ধ্বংসে অভিযান হলেও মশা মারায় নজর নেই

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২৫

প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। সিটি করপোরেশন মশক নিধনে বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও কমছে না ডেঙ্গু রোগী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই ‘অভিযান-জরিমানা’র কৌশল বেছে নিয়েছে সিটি করপোরেশন। লার্ভা ধ্বংসের কথা বলা হলেও পূর্ণাঙ্গ মশা মারার দিকে নজর নেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি প্রয়োজন মশা মারা। এই কাজটি অবশ্যই সিটি করপোরেশনকেই করতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা। সিটি করপোরেশন ফগিং করা হচ্ছে দাবি করলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের দাবি, তারা উড়ন্ত বা অ্যাডাল্ট মশা মারতে ফগিং করতে মশক নিধন কর্মীদের দেখা পান না।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩১৫ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ২৬২ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩ জন। এ নিয়ে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগীই রাজধানীর বাসিন্দা। এবছর এখন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫২ জন।

এ নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮০ জন। আর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত হাসপাতালে মোট রোগী ভর্তি হয়েছেন ১১ হাজার ৮১৬ জন।

উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, সিটি করপোরেশন যখন লার্ভা ধ্বংসে অভিযান করেন তখনি শুধু ফগিং করার জন্য সঙ্গে মশক কর্মী নিয়ে যান। এছাড়া উড়ন্ত মশা মারার জন্য কাউকে দেখা যায় না। অথচ এই অ্যাডাল্ট এডিস মশার কামড়েই ডেঙ্গু রোগ ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশন বলছে—তারা এখন লার্ভা ধ্বংসে         জোর দিচ্ছেন। এ বিষয়ে উত্তর সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান বলেন, লার্ভার চেয়ে উড়ন্ত মশা মারা একটু কঠিন। তাই এ মুহূর্তে আমরা লার্ভা ধ্বংসের দিকে নজর দিচ্ছি। যেন লার্ভা থেকে অ্যাডাল্ট মশায় না রূপান্তরিত হতে না পারে সে জন্য লার্ভা ধ্বংসের জন্য ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শাহনেওয়াজ বাবলু জানান, প্রচুর পরিমাণে মশা বেড়েছে। মশার ওষুধ ছিটানোর লোক কখনোই এই এলাকায় দেখিনি। আমরা এ বিষয়ে বার বার কাউন্সিলরকে বললে তিনি জানান, দেখছি কি করা যায়। এর পরে আর খোঁজ থাকে না। উড়ন্ত মশা মারা তো আমাদের কাজ না। এয়ারপোর্টের বাসিন্দা আদনান হোসাইন জানান, মশার ওষুধ ছিটাতে তিনি শেষ কবে দেখেছেন তিনি জানেন না।

এ বিষয়ে কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে সমন্বিত মশক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।  কীটনাশক হিসেবে লার্ভি সাইড ও অ্যাডাল্টি সাইডের প্রয়োগ এবং জনগণকে এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে অভিযান পরিচালনা কমিয়ে দিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে এডিস মশার প্রজনন স্থল ধ্বংস করতে হবে।