বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশ রক্ষায় প্রস্তুত থাকুন :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করতে সশস্ত্র বাহিনীকে সবসময় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমরা যুদ্ধ চাই না। শান্তি চাই। কারণ, শান্তি ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। যুদ্ধ ধ্বংস ডেকে আনে। আমরা যুদ্ধের পথে যেতে চাই না। কিন্তু, কেউ যদি আক্রমণ করে সেই বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার সব প্রস্তুতি আমাদের থাকতে হবে। সেজন্য আমাদের প্রশিক্ষণ এবং সরঞ্জামের আধুনিকায়নের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে।

গতকাল রবিবার সকালে ‘নৌবাহিনী নির্বাচনি পর্ষদ-২০২১’ ও ‘বিমান বাহিনীর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২১-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ঢাকা সেনানিবাসের নৌ ও বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে ভার্চুয়ালি এই সভায় অংশগ্রহণ করেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় যখনই প্রয়োজন হবে তখনই সশস্ত্র বাহিনী মানুষের পাশে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেভাবে আপনারা মানুষের সেবা করছেন সেভাবে সেবা করে যাবেন।

নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মকর্তাদের বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দক্ষ যারা তারা প্রমোশন পেয়ে প্রত্যেকটি বাহিনী পরিচালনার দায়িত্ব পাবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

‘বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গর্বিত’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ চলবে এবং বাংলাদেশ হবে ভবিষ্যতে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা পদোন্নতির জন্য যে পদ্ধতিগুলো নিয়েছেন টিআরএসিই-ট্রেস (টেবুলেটেড  রেকর্ড অ্যান্ড কম্পারেটিভ ইভালুয়েশন) আমি মনে করি, এটা একটা আধুনিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতির ভিত্তিতেই আপনাদের জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা দিয়ে আপনারা নির্বাচনি পর্ষদ আগামী দিনে যারা দক্ষতার সঙ্গে নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনী পরিচালনা করবে তাদের নির্বাচিত করবেন। পাশাপাশি, আমি এটাও বলব যে, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকে কর্তব্য পালনে অনেক দক্ষতার পরিচয় দিতে পারে। কাজেই, তারাও যেন অবহেলিত না হয় সেদিকটাও আপনারা বিবেচনা করবেন।’

করোনার সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীসহ সকল প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় প্রধানমন্ত্রী সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগকালীন মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেকটি মানুষের দায়িত্ব। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সবসময় এই কাজটি করে থাকে। যখনই দুর্যোগ এসেছে সাধারণ মানুষ আপনাদের সেবা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী আজ শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, দক্ষ এবং পেশাদার বাহিনী হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে।

নৌবাহিনী নির্বাচনি পর্ষদ-২০২১

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্ষদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত এ পর্ষদ, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে নৌবাহিনীর ভবিষ্যত্ জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা নির্বাচন করবেন। পর্ষদের আগে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল নৌবাহিনীর নির্বাচনি পর্ষদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় উপস্থিতির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। 

বিমান বাহিনীর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২১

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন। এসময় বিমান সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণ, বিভিন্ন ঘাঁটির এয়ার অধিনায়কগণ এবং অন্যান্য এয়ার অফিসারগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনি পর্ষদ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।