আফগানিস্তান গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শীর্ষ মার্কিন জেনারেল এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মার্ক মিলি। স্থানীয় সময় শনিবার শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা এই মন্তব্য করেন। এদিকে ব্রিটেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যার নিক কার্টার বলেছেন, আফগানিস্তান নিয়ে সবারই ভুল ধারণা ছিল। কেউ বুঝতে পারেনি যে, তালেবান এত দ্রুত অগ্রসর হবে এবং ক্ষমতা নেবে। খবর ভয়েস অব আমেরিকা ও বিবিসির
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে মার্ক মিলি বলেন, আমার সামরিক হিসাবনিকাশ বলছে, পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে। গৃহযুদ্ধের জেরে আফগানিস্তানে আলকায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১২, ২৪ অথবা ৩৬ মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থান হতে পারে।
‘সবারই ভুল ধারণা ছিল’
ব্রিটেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যার নিক কার্টার বলেন, তালেবানের এত দ্রুত অগ্রসরে সবাই আশ্চর্য হয়েছে। সামরিক গোয়েন্দা তথ্য ভুল ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্যার নিক কার্টার বলেন, সরকার বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য নিয়েছিল। এটা কেবল সামরিক গোয়েন্দার বিষয় নয়। গত সপ্তাহে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব এমপিদের বলেছিলেন, গোয়েন্দা তথ্যে ছিল, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অবনতি হবে। এই বছর তালেবান দখল নেবে তা কেউ ভাবেনি।
পাঞ্জশিরে কয়েক শ তালেবান আটকের দাবি
রাজধানী কাবুলের পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান তালেবানের নিয়ন্ত্রণে এলেও সংঘাত থামেনি। কাবুলের উত্তরে পাঞ্জশির উপত্যকায়ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে স্থানীয় যোদ্ধারা তালেবানের দখল রুখতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে দাবি এবং পালটা দাবি রয়েছে। তালেবান বলছে, তারা আরো পাঁচটি জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং প্রদেশটির কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আফগানিস্তানের ন্যাশনাল রেজিস্টেন্স ফ্রন্ট (এনআরএফ) এর একজন মুখপাত্র বলেন, প্রচণ্ড লড়াই চলছে এবং হাজার হাজার তালেবানকে ঘিরে রাখা হয়েছে। ১৯৮০র দশকে আফগানিস্তান সোভিয়েত দখলে থাকার সময় এবং তালেবানদের আগের শাসনামলে পাঞ্জশির উপত্যকায় দেড় থেকে ২ লাখ মানুষের বাস ছিল। এনআরএফের নেতা আহমদ মাসুদ হেরাতে নারীদের বিক্ষোভের প্রশংসা করেন এবং বলেন পাঞ্জশিরে প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। এনআরএফ বা তালেবানদের কোনো দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এনআরএফ দাবি করেছে, তারা ১ হাজার ৫০০ তালেবান সদস্য আটক করেছে। তারা বলেছেন, প্রায় ১ হাজার তালেবান সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন। তালেবানের মুখপাত্র বিলাল কারিমি জানান, তারা প্রদেশের সাতটি জেলার পাঁচটি জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
তালেবান পাঞ্জশির দখলের দাবি করলেও সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন প্রতিরোধ বাহিনীর নেতা আমরুল্লা সালেহ্ ও আহমদ মাসুদ। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের কাছে সাহায্যের আবেদন জানালেন সালেহ। তার আশঙ্কা, পাঞ্জশিরে গণহত্যা চালাতে চাইছে তালেবান। জাতিসংঘকে লেখা চিঠিতে সালেহ বলেছেন, তালেবানের হাত থেকে বাঁচতে কাবুল ও অন্যান্য শহর থেকে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পাঞ্জশিরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেক মহিলা, শিশু ও বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। কিন্তু পাঞ্জশির চারদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে তালেবান। এটা অমানবিক। তালেবান গণহত্যা করতে চাইছে। এখনই যদি আন্তর্জাতিক দুনিয়া এই বিষয়ে নজর না দেয় তাহলে মানবতার জন্য আরো বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। চিঠিতে সালেহ আরো জানান, গত কয়েক বছর ধরে আফগানিস্তানে সংঘর্ষ, মহামারি ও অর্থনৈতিক সমস্যার ফলে সংকটজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই তিনি জাতিসংঘের কাছে তালেবানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
কাবুল বিমানবন্দর খুলেছে
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ছাড়ার পর কাবুল বিমানবন্দরের কার্যক্রম আবারও শুরু হচ্ছে। আফগান বিমান সংস্থা আরিয়ানা তিনটি শহর—হেরাত, মাজার-ই-শরিফ এবং কান্দাহারের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট আবারও চালুর ঘোষণা দিয়েছে। আলজাজিরা টিভি কাতারের রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃৃৃৃত করে বলেছে যে, কাতারের একটি কারিগরি দল বিমানবন্দর আবারও সচল করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে ত্রাণবাহী ফ্লাইট চলাচল সম্ভব হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন গতকাল রবিবার কাতার সফরে গেছেন। দেশটি আফগানিস্তান বিষয়ে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে। তবে ব্লিংকেন এই সফরে তালেবানদের কারো সঙ্গে সাক্ষাতের আশা নেই। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর প্রধান জেনারেল ফয়েজ হামিদ কাবুলে পৌঁছেছেন। তিনি বলেছেন, ভয়ের কিছু নেই। কিছুদিনের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
