২৯ বছর পর র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৪৯

১৯৯২ সালে রংপুর জেলার জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে রংপুরের মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর ইব্রাহিম হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম আজাদ ২৯ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। তবে দুই যুগের বেশি সময় পালিয়ে থেকেও রক্ষা পাননি তিনি। 

সম্প্রতি র‌্যাবের কাছে আবুল কালামের বিরুদ্ধে সাজা ওয়ারেন্টের কাগজ আসে। এরপর র‌্যাব-৪ তাকে (আবুল কালাম) শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। অবশেষে সোমবার (৬ আগস্ট) ভোরে রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

গ্রেফতারের পর সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবুল কালাম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।
 
সংবাদ সম্মেলনে, র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক জানান, জমি নিয়ে বিরোধে ১৯৯২ সালে ঘটনার দিন রাতে স্থানীয় বাজার থেকে ফেরার পথে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার গুটিবাড়ী সরকারপাড়া এলাকায় খুন হয় ইব্রাহিম। পূর্ব শত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যৃ হয়। ওই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মফিজ উদ্দিন বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় আবুল কালামসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন। একই বছর মামলাটি তদন্ত শেষে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। পরবর্তীতে রংপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত ইব্রাহিম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়। হত্যার সঙ্গে জড়িত তিনজন কারাগারে থাকলেও আবুল কালাম পলাতক ছিলেন।

কোন বিবরণ উপলভ্য নেই।

তিনি আরও জানায়, গ্রেপ্তার আবুল কালাম উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন। তবে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় তিনি পলাতক ছিলেন। তিনি ১৯৮৭ সালে দাখিল, ১৯৮৯ সালে আলিম এবং ১৯৯১ ফাজিল পাস করেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেও কখনো তিনি চাকরিতে যোগ দেননি। ২০০৭ সালে নিজের নাম-পরিচয় গোপন রেখে বদরগঞ্জে বিয়ে করেন। তবে ছয় মাসের মধ্যেই তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর বিভিন্ন সময় রংপুরে আত্মগোপনে থাকলেও ২০০১ সালে তিনি রাজধানীতে চলে আসেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ‘কনস্ট্রাকশন বিল্ডিং’-এ নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এমনকি নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রে ‘নাম’ও পরিবর্তন করে আজাদ মিয়া রাখেন।

এতদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে ধরতে পারেনি কেন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বড় ভাই মামলা করেছিল। তবে কিছুদিন পর তিনি মারা যান। এছাড়া নিহতের স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে তখন জীবিত ছিল। তারাই মামলা দেখভাল করত। কিন্তু হঠাৎই ইব্রাহিমের স্ত্রী ও ছেলে মারা যান। বাবা হত্যার সময় মেয়ে ছোট থাকায় তিনিও এই মামলার বিষয়ে তেমন কিছু জানতেন না। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আবুল কালামকে ধরতে অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছিল। পরে র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

ইত্তেফাক/কেএইচ/এসজেড