হুমকিতে ৩০ হাজার পরিবার
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
ভারতের আসাম, মেঘালয় প্রদেশের বন্যার পানি ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে গত তিন দিন ধরে বন্যার পানি হ্রাস পেলেও ভাঙন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না তীরবর্তী গ্রামবাসী। তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার ২৫ গ্রামে। হুমকিতে পড়েছে এ সব গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১ লাখ মানুষ।
গত রবিবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের চর ইটালুকান্দা, গেন্দার আলগা, চর গেন্দার আলগা, ঘুঘুমারী, চর ঘুঘুমারী, পশ্চিম খেদাইমারী, খেদাইমারী, পশ্চিম পাখিউড়া, পাখিউড়া, পয়েস্ততী বাগুয়া, যাদুর চর ইউনিয়নের ধনার চর, ধনার চর নতুনগ্রাম, ধনার চর গ্রাম, দিগলাপাড়া ও রাজিবপুর উপজেলা কোদালকাটি ইউনিয়নের বিলপাড়া, মধ্যচরসাজাই, চর সাজাই, উত্তর কোদালকাটি, সঙ্খর মাধবপুর, পাইকাটারী, রাজিবপুর ইউনিয়নের ধলাগাছা, মহনগঞ্জ ইউনিয়নের বড়বেড়, কিটনটারী, নয়ারচর দুটি উপজেলা ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের কবলে পড়েছে।
রাজিবপুর উপজেলার বিলপাড়া গ্রামের রহিমা খাতুন বলেন, ‘আমাগো বাড়িঘর নদীতে ভাইঙ্গা গেছে। বন্যার মধ্যে এহন কোহানে যামু? আমাগো যাওয়ার কোনো জাগা নাই, সরকারি কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাই নাই।’ রাজিবপুর উপজেলার উত্তর চরসাজাই গ্রামের শিক্ষক মো. আমিনুর রহমান বলেন, বন্যা ও নদী ভাঙন একযোগে শুরু হয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষ শুকনা খাবার কিনে খাবে না নদী ভাঙনে কবল থেকে বাড়িঘর সরিয়ে অন্য জাগায় নিবে।
রৌমারী ও রাজিবপুর নদী ভাঙন প্রতিরোধ আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হানিফ মাস্টার বলেন, রৌমারী উপজেলার ১৫টি গ্রামের ১৮ হাজার পরিবার ও রাজিবপুর উপজেলার ১০টি গ্রামের ১২ হাজার পরিবার নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। আমরা কমিটির পক্ষ থেকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছি।
রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির ছক্কু বলেন, আমার ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী সকল গ্রামে বন্যা ও নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। চরশৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান কে এম এইচ সাইদুর রহমান দুলাল মাস্টার বলেন, চর শৌলমারী ইউনিয়নের উত্তরে চরইটালুকান্দা থেকে পাখিউড়া পযর্ন্ত ব্রহ্মপুত্র নদে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। একদিকে বন্যা অন্যদিকে নদী ভাঙন মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যার পরিস্থিতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, বন্যার কারণে জেলার সব নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই মুহূর্তে ভাঙন অব্যাহত ও নদীতে পানি বেশি থাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা সম্ভব হচ্ছে না। পানি কমে গেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
