গিনিতে সেনা অভ্যুত্থান প্রেসিডেন্ট আটক, ভেঙে দেওয়া হলো পার্লামেন্ট

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:০০

পশ্চিম আফ্রিকার গিনিতে সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছে। এলিট ফোর্স এই বিদ্রোহ করেছে। নতুন সরকার গঠনের কথা জানিয়েছেন এলিট ফোর্সের সেনাপ্রধান। প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফিউ জারি করা হয়েছে। খবর ডয়চেভেলের

রবিবার ভোর থেকেই গিনির রাজধানীতে গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে গুলির লড়াই হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট আলফা কনডে              পালিয়ে গেছেন। পরে এলিট ফোর্সের সেনারা জানান, প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিকালে দেশের জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে একটি বিবৃতি দেন এলিট ফোর্সের সেনাপ্রধান মামাডি দৌমবউয়া। তিনি জানান, দ্রুত অস্থায়ী সরকার তৈরি করে শাসনকাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে নতুন সংবিধান তৈরির কাজও শুরু হবে।

এলিট ফোর্সের প্রধান গিনির জাতীয় পতাকা পাশে রেখে বিবৃতি দেন। তার পাশে আট সশস্ত্র সেনা দাঁড়িয়ে ছিল। বিবৃতিতে বর্তমান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করে জানান, একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট। দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছে ছিল। সে কারণেই এলিট ফোর্স বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রেসিডেন্ট এখন তাদের হেফাজতে আছেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন সেনাপ্রধান। তার বক্তব্য, নতুন করে সরকার গঠন করা হবে। নতুন সংবিধান তৈরি হবে। নতুন সরকার হবে মানুষের সরকার। ক্ষমতা একজন বা কয়েকটি পরিবারের হাতে থাকবে না। সবাই রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার অধিকার পাবেন।

আপাতত অনির্দিষ্টকালের কার্ফিউ ঘোষণা করা হয়েছে গিনিতে। মধ্যবর্তী সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত কার্ফিউ জারি থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন। দুই বছর আগে শেষবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছিল গিনিতে। তারপর থেকেই সেখানে রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট একনায়কের মতো দেশ শাসন করছেন। শুধু তাই নয়, দারিদ্র্যে ডুবে যায় দেশটি। প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেই সমস্ত বিষয়ই এদিনের বিবৃতিতে বলেছেন সেনাপ্রধান। সেনার বিবৃতি শোনার পরে গিনির রাস্তায় সাধারণ মানুষকে উত্সব করতেও দেখা গেছে।

গিনিতে বিদ্রোহের পরে দেশের স্থল ও আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের সরকার বলার চেষ্টা করেছিল, বিদ্রোহ সফল হয়নি। কিন্তু পরে সেনাপ্রধান বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেন যে, প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য মন্ত্রীদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসা হবে। তাদেরকেও গ্রেফতার করা হবে কি না, নতুন মন্ত্রিসভায় তাদের জায়গা হবে কি না—তা স্পষ্ট করা হয়নি।