২৪তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর গ্যালারি উন্মুক্ত
ইত্তেফাক রিপোর্ট
অনলাইনে উদ্বোধন হয়েছিল বেশ আগেই, এ বছরের ২৯ জুন। ২৪তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে দেখাও যাচ্ছিল। সেই প্রদর্শনীর গ্যালারিগুলো এবার দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো। শিল্পকলার মঞ্চগুলো ফাঁকা পড়ে থাকলেও শিল্পানুরাগীদের পদচারণায় সরব হয়ে উঠেছে গ্যালারি প্রাঙ্গণ। শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যাবে প্রদর্শনী স্বাস্থ্যবিধি মেনে।
২৪তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী ২০২১-এ স্থাপনাশিল্পে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন শিল্পী মো. ইমতিয়াজ ইসলাম, চিত্রকলায় রুহুল করিম রুমী, ছাপচিত্রে শিল্পী আনিসুজ্জামান, ভাস্কর্যে কনক কুমার পাঠক, প্রাচ্যকলায় সুশান্ত কুমার অধিকারী, কারুশিল্পে সামিয়া আফরিন, মৃিশল্পে মো. রবিউল ইসলাম, গ্রাফিক ডিজাইনে আল মঞ্জুর এলাহী, আলোকচিত্রে মো. আল ইয়াছা ইরফান উদ্দিন, পারফরম্যান্স আর্টে ইফাত রেজোয়ানা রিয়া, নিউ মিডিয়া আর্টে জিহান করিম। এছাড়া সম্মানসূচক পাঁচটি পুরস্কার পেয়েছেন চিত্রকলায় আবু তারেক মো. কাদিমুল ইসলাম যাদু, ভাস্কর্যে আমিনুল ইসলাম আশিক ও অলক রাজবংশী, ছাপচিত্রে মো. রফিকুল ইসলাম। বরেণ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পাঁচটি বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে চিত্রকলায় বেঙ্গল ফাউন্ডেশন সম্মাননা পেয়েছেন শিল্পী অভিজিত্ চৌধুরী, কালিদাস কর্মকার সম্মাননা পেয়েছেন রাসেল কান্তি দাশ, ভাস্কর্যে ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হক সম্মাননা পেয়েছেন মো. তানভীর আহমেদ জয়, স্থাপনাশিল্পে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন সম্মাননা পেয়েছেন প্রমথেশ দাস পুলক, ছাপচিত্রে শিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন সম্মাননা পেয়েছেন কামরুজ্জামান।
প্রতিটি মাধ্যমে একটি করে মোট ১১টি শ্রেষ্ঠ পুরস্কার এবং সব মাধ্যম থেকে একটি শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। মাধ্যমভিত্তিক প্রতিটি শ্রেষ্ঠ পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ লাখ টাকা এবং সব মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ পুরস্কারের জন্য ২ লাখ টাকা। এছাড়া একটি মেডেল, একটি ক্রেস্ট ও একটি সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। পাঁচটি সম্মানসূচক পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যার প্রতিটির মূল্যমান ৫০ হাজার টাকা। সঙ্গে স্পন্সরশিপ পুরস্কারও রয়েছে।
প্রদর্শনীতে ৩২৩ জন শিল্পীর বাছাইকৃত ৩৪৭টি শিল্পকর্ম রয়েছে। এর মধ্যে চিত্রকলা রয়েছে ১৫৭টি, ছাপচিত্র ৫৩টি, আলোকচিত্র ১৭টি, ভাস্কর্য ৪৭টি, প্রাচ্যকলা ১০টি, মৃিশল্প ৭টি, কারুশিল্প ২০টি, গ্রাফিক ডিজাইন ৫টি, স্থাপনাশিল্প ১৮টি, নিউ মিডিয়া আর্ট ৭টি ও পারফরম্যান্স আর্ট রয়েছে ৬টি। এ বছরের নতুন সংযোজন চার জন কিউরেটরের তত্ত্বাবধানে চারটি ভিন্ন মাত্রার আর্ট প্রজেক্ট প্রদর্শনীতে যুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যেক কিউরেটরের অধীনে ১০ জন শিল্পী কাজ করেছেন। প্রত্যেক কিউরেটর তাদের নিজস্ব থিম ও স্পেস নিয়ে তাদের কর্ম সাজিয়েছেন। প্রত্যেক কিউরেটরকে তাদের প্রজেক্টের জন্য ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় চিত্রশালার ছয় নম্বর গ্যালারিতে এই কিউরেটেড উপস্থাপনার আয়োজন রাখা হয়েছে। প্রদর্শনীর শেষ দিনে পুরস্কার প্রদানের কথা রয়েছে। শিল্পকলা একাডেমির ফেসবুক পেইজেও (www.facebook.com/shilpakalapage) প্রদর্শনী উপভোগ করা যাবে।
