শ্রীপুরে কৃষি বিভাগের অবহেলা
শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আমন মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল ‘বিনা-১৭’ ধানের বীজ স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে শ্রীপুরের গোদারচালা গ্রামের রেজাউল করিমকে অন্য কৃষকদের সঙ্গে বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছিল। তিনি দেড় বিঘা জমিতে এজাতের ধান চাষ করেছিলেন। রোপণের সাত দিন পরই দেখেন ধানের শিষ বের হয়ে আসছে। মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে কৃষক রেজাউলের। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে জানতে পারেন রোপণ প্রক্রিয়ায় ভুলের কারণে তার জমিতে এমন অবস্থা হয়েছে। অথচ চাষ প্রক্রিয়ায় ভিন্নতা থাকার পরও তাকে কোনোকিছু অবহিত করা হয়নি। স্থানীয় কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে তারা বিষযটি এড়িয়ে যান।
একই গ্রামের নিজামউদ্দিন ৫০ শতাংশ জমিতে এ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। তারও একই অবস্থা। তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো পরামর্শই পাননি। স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, উচ্চফলনশীল জাতের কথা বিবেচনা করে ২১ জন কৃষকের মধ্যে সাত একর জমি চাষের জন্য সরকারিভাবে বীজ বিতরণ করা হয়। এছাড়াও আরো অর্ধশতাধিক কৃষক তাদের জমিতে বিভিন্ন বীজ ডিলারদের থেকে ক্রয় করে বিনা-১৭ জাতের আমন ধানের চাষ করেছেন। তবে বীজ ক্রয়ের সময় কৃষকদের এ বিষয়ে তেমন কোনো নির্দেশনা না দেওয়ায় এমন সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তেলিহাটি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামরুন্নাহার বলেন, তিনি ভুলে কৃষকদের এ ধানের রোপণ প্রক্রিয়া (চারা তৈরি) অবহিত করতে পারেননি। এর জন্য কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে সেজন্য সবার কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)র উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামসুন্নাহার বেগম বলেন, বিনা-১৭ জাত বীজতলায় চারার বয়স ২০ দিনের মধ্যেই রোপণ করতে হয়। এটা কৃষকের অজ্ঞতা ও স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অবহেলার ফল।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এ এস এম মুয়ীদ উল হক বলেন, কৃষকদের এ ক্ষতির জন্য মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার অবহেলার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
