কুমিল্লায় নিজ ঘরে পল্লিচিকিত্সক সৈয়দ বিল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী খন্দকার সফুরা বেগমকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ঐ দম্পতির পুত্রবধূ শিউলী বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। জেলার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের সুবর্ণপুর গ্রামের মীর বাড়িতে রবিবার দিবাগত গভীর রাতে মুষলধারে বৃষ্টির সময় চাঞ্চল্যকর এ জোড়াখুনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ গতকাল সোমবার ভোরে দুজনের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ঐ দম্পতির মেয়ে সৈয়দা বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে তার দুবাই প্রবাসী ভাই সৈয়দ আমান উল্লাহ দিদারের স্ত্রী শিউলী বেগমের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা দুই-তিন জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
কোতোয়ালি মডেল থানাপুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছে। এদিকে এই খবর শুনে সোমবার সকাল থেকে দিনভর শত শত উত্সুক মানুষ ঐ বাড়িতে ভিড় জমায়।
জানা গেছে, সুবর্ণপুর গ্রামের সৈয়দ বিল্লাল হোসেন (৭০) সুবর্ণপুর বাজারে পল্লিচিকিত্সক হিসেবে রোগীদের চিকিত্সা দিতেন। তার বড় ছেলে সৈয়দ আমান উল্লাহ দিদার দুবাইতে ও ছোট ছেলে সৈয়দ সানাউল্লাহ সৌদি আরবে চাকরি করেন। তাদের দুই মেয়ে সৈয়দা বিলকিস আক্তার ও সৈয়দা ফরিদা আক্তারের বিয়ে হয়েছে। তারা তাদের স্বামীর বাড়িতে থাকেন। পুত্রবধূ শিউলী বেগম, তার তিন ও পাঁচ বছরের দুই সন্তান, বিল্লাল ও তার স্ত্রী সফুরা (৫৬) ঐ বাড়িতে বসবাস করেন। এরই মধ্যে রবিবার গভীর রাতে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় ঐ দম্পতিকে। স্বামী-স্ত্রীর লাশ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে ছিল। পুলিশ ভোরে শিউলীকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
নিহতদের মেয়ে বিলকিস ও প্রতিবেশীরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে বিল্লালের বাড়িতে ডাকাতি হয়। ঐ সময় লুট হওয়া মালামাল কিছু দিন পরে পুত্রবধূ শিউলীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে শিউলী স্বীকার করেন, ডাকাতির ঘটনা তিনি সাজিয়ে ছিলেন। এরপর এমন কাজ আর কখনো করবেন না মুচলেকা দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন। স্থানীয়দের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিউলী জড়িত থাকতে পারেন। তাদের ঘরের লোহার কলাপসিবল গেট ও দরজা-জানালা অক্ষত ছিল। আর বহিরাগত দুর্বৃত্তরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকলে ঐ রাতে ভেতর থেকে কেউ হয়তো দরজা খুলে দিয়েছিল। দুজনের লাশ ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে তাদের বাড়িতে রাখা হয়েছে। তাদের দুই ছেলে প্রবাস থেকে দেশে আসার পর মঙ্গলবার বিকালে দাফনকাজ করা হতে পারে।
এ দিকে আটক শিউলী আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর সাংবাদিকদের জানান, রবিবার গভীর রাতে বৃষ্টির সময় সাত-আট জন দুর্বৃত্ত তাদের ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাদের হাত-পা বেঁধে স্ট্যাম্পসহ বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের খোঁজ করেন। সেগুলো না দেওয়ায় শ্বাসরোধে তাদের হত্যা করে পালিয়ে যায়। তাত্ক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি বলে জানান শিউলী। ঘটনার সময় শিউলী ঐ ঘরে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যকারীদের আটকের চেষ্টা চলছে।
