অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত চট্টগ্রামের ২৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামো ও শিক্ষকের সংকটে বিঘ্নিত হচ্ছে লেখাপড়া। গত ১০ বছরেও বিদ্যালয়গুলো নিয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর জন্য শিক্ষকের পদ সৃজন করা হয়নি। শ্রেণিকক্ষের জন্য নতুন কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীর বাড়তি চাপে এসব বিদ্যালয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রাথমিকের শিক্ষকদের দিয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করতে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে সারা দেশে প্রায় ৭০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করা হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় এ ধরনের ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়।
জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহাম্মদ মনসুর আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছিল। তবে নতুন করে আর কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে না। তবে চালু করা স্কুলগুলো কীভাবে চলবে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষকদের যোগ্যতা ও পাঠ্যপুস্তকের ভিন্নতা রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় অবৈতনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমি এসব বিদ্যালয় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। চিঠিতে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো তুলে ধরেছি।’
শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করার আগে বিদ্যালয়গুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় পদ সৃজন করা হয়নি। এমনিতেই প্রাথমিকে শিক্ষক স্বল্পতায় পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তার ওপর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার বাড়তি চাপ প্রাথমিক শিক্ষকদের সামাল দিতে হচ্ছে। শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস করাতে হচ্ছে। কিছু স্কুলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সামান্য বেতনে দুই-এক জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারপরও পাঠদান অব্যাহত রাখা যাচ্ছে না।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ আছে পাঁচটি। আর শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৮০০ জন। শিক্ষকদের অনুমোদিত ১০টি পদের মধ্যে ৯ জন কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আরো পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ ও আটটি শিক্ষকের পদ সৃজনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব খান বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের ৮-৯ মাইলের মধ্যে কোনো হাইস্কুল নেই। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক স্বল্পতায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’
সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর বামন ডেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, এই বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। ১১ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত সাত জন। নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়নি। এতে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রাউজান উপজেলার জঙ্গল রাউজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ ও শিক্ষকের পদ সৃজনের জন্য জেলা কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ‘বর্তমানে অন্য স্কুল থেকে দুই জন শিক্ষককে প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অষ্টম শ্রেণির জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়নি। আরো শিক্ষকের পদ সৃজন প্রয়োজন।’
এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, জেলার অষ্টম শ্রেণি চালু করা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সমস্যা তুলে ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে অবকাঠামো ও শিক্ষক স্বল্পতা বড় সমস্যা।
