পাঞ্জশির দখলের দাবি তালেবানের

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:২৭

আফগানিস্তানের পাঞ্জশির উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে তালেবান। এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের সম্পূর্ণ ভূখণ্ডের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো। তবে তালেবানবিরোধী যোদ্ধারা পাঞ্জশির পতনের দাবি অস্বীকার করেছে। গত মাসে কাবুলের পতনের পরও পাঞ্জশির এত দিন তালেবানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এবং সেখান থেকে তালেবানবিরোধী মিলিশিয়াদের সঙ্গে তাদের লড়াইয়ের খবর আসছিল। গতকাল কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, পাঞ্জশির প্রদেশ এখন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। এ সময় তিনি নারীদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে উল্লেখ করেন। তালেবান সরকার গঠনের অনুষ্ঠানে চীন, তুরস্ক, পাকিস্তান, রাশিয়া, ইরান ও কাতারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার

প্রাদেশিক রাজধানী পাঞ্জশিরের কেন্দ্রস্থলে যোদ্ধারা তাদের পতাকা ওড়াচ্ছে এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে তালেবান। ঐ এলাকার ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ এখন বিচ্ছিন্ন। জাবিউল্লাহ জানান, উপত্যকাটি আজ (সোমবার) পুরোপুরি শত্রুমুক্ত এবং এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের যুদ্ধ শেষ হয়েছে। তবে সেখানে সক্রিয় থাকা তালেবানবিরোধী এনআরএফের যোদ্ধারা পাঞ্জশির পতনের কথা অস্বীকার করছে। তাদের একজন মুখপাত্র আলি মাইসাম বলেছেন, এ দাবি সত্য নয়।

এনআরএফের এক টুইটার বার্তায় বলা হয়, ‘তালেবান ও তাদের সঙ্গীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলবে, যত দিন ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা না হয়।’ কাবুলের উত্তরে পাঞ্জশির উপত্যকাটি তালেবানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। পার্বত্য এই এলাকার লোকসংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখের মাঝামাঝি। ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বা এনআরএফ নামে এই গোষ্ঠী বহু জাতিগোষ্ঠীর লোকদের নিয়ে গঠিত এবং তাতে মিলিশিয়া ছাড়াও সাবেক আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য আছেন। পরে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহও এনআরএফের সঙ্গে যোগ দেন। তবে এই গোষ্ঠীর আসল নেতা হচ্ছেন ৩২ বছর বয়সি আহমাদ মাসুদ, যিনি পড়াশোনা করেছেন লন্ডনের কিংস কলেজে এবং স্যান্ডহার্স্ট মিলিটারি একাডেমির গ্র্যাজুয়েট। তার পিতা আহমদ শাহ মাসুদ ‘পাঞ্জশিরের সিংহ’ নামে পরিচিত ছিলেন, যিনি ২০০১ সালে এক আক্রমণে নিহত হন। আহমাদ মাসুদ তালেবানের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তালেবান তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

তালেবানের মুখপাত্র বলেন, পাঞ্জশিরের এই বিদ্রোহীদের নেতারা এখন কোথায় আছেন তা স্পষ্ট নয়। তবে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেননি। জাবিউল্লাহ বলেন, পাঞ্জশিরের বিরোধীদের সঙ্গে তালেবান আলোচনা করতে চেয়েছিল, কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর শক্তি প্রয়োগ করা হয়। পাঞ্জশিরকে দীর্ঘকাল ধরেই তালেবানবিরোধী মনোভাবের কেন্দ্র বলে মনে করা হয়। তবে মুজাহিদ সংবাদ সম্মেলনে পাঞ্জশিরের লোকদের ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে মৈত্রী প্রতিষ্ঠার আভাস দেন। জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, সরকার গঠনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে নেওয়া হয়ে গেছে। এখন টেকনিক্যাল কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে নারীদের প্রতি তালেবানের মনোভাবের বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকেরা। উত্তরে জবিউল্লাহ বলেন, ‘নারীরা আমাদের সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শরিয়াহ বা ইসলামি আইনের অধীনে তাদের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হবে।’

কাবুলে আবার মার্কিন সেনা যাবে

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম দাবি করেছেন, ‘আমরা ভবিষ্যতে আবার আফগানিস্তানে যাব। বিবিসির হার্ডটককে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদ আরো বাড়বে। তাই আমরাও আবার যাব।’