তানভীর তারেক
তামিম মৃধা, এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী। ‘গানফ্রেন্ডস’ নামের একটি ইউটিউব প্লাটফর্ম থেকে একেবারেই শখের বশে গান আপলোড শুরু করে ধীরে ধীরে দর্শকদের ভেতরে দারুণ এক জায়গা তৈরি করে নেয় তামিম ও তার বন্ধুরা। নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর গল্পটা দারুণ।
তামিম বলেন, ‘অনেকের বাবা-মা ছেলেমেয়েকে গানে বা শোবিজে দিতে আপত্তি করেন। কিন্তু আমার বাবা-মা একেবারেই বিপরীত। মা টিভি বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন। বাবা গাইতে পারেন না, কিন্তু ভীষণ সংগীতানুরাগী। দুজনই চেয়েছিলেন ছেলের এই সৃজনশীলতাকে প্রতিষ্ঠা করতে। সেই উত্সাহেই গানের ক্যারিয়ার শুরু। আজকের সালমান মুক্তাদির, আয়মান সাদিক, সৌভিক থেকে শুরু করে একদল মেধাবী এই তরুণ একসঙ্গেই বেড়ে উঠেছে এই শহরে। তামিম বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন যে, আমাদের পারস্পরিক পরিচয়টা ক্যারিয়ার শুরু করার পর। কিন্তু আমরা সকলেই প্রায় স্কুলফ্রেন্ড।’
গানফ্রেন্ডসে নানা ধরনের প্যারোডি গানের কন্টেন্ট তৈরির পরই মূলত এই শোবিজে ধীরে ধীরে নিজের জাত চেনান তামিম। এরই ভেতরে একটি প্লেব্যাকে কণ্ঠ দিয়েছেন। বেশ ক’টি নাটকের গানে তামিমের গাওয়া গান দারুণ সাড়া ফেলেছে। অভিনয় আর গান। এই দুটোর সমন্বয় নিয়ে তামিম বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আলাদা করে কখনো ভাবিনি। তবে গানটাই আমার প্রথম প্রেম, এটাই সত্য। আমি সৌভাগ্যবান যে, স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়ের একমাত্র শিষ্য হিসেবে দীক্ষা নিতে পেরেছি। একমাত্র বললাম এই কারণে যে, রথীন দা কখনো কাউকে শেখানোর ব্যাপারে অতটা আগ্রহী ছিলেন না। এক্ষেত্রেও আমার বাবা-মা আমাকে এমন এক গুরুর সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ করে দেন। কারণ বাবা রথীন দাকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, তার একজন অনুসারী অন্তত রেখে যাওয়া জরুরি।’
এমন ছোট ছোট অনেক গল্পেই একজন তামিম মৃধার ক্যারিয়ার জীবন। অভিনয়ের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে ইউটিউবে কাজ করতে গিয়ে কিছু কিছু নাটকের ব্যাপারে বিতর্কের মুখোমুখি তাকেও হতে হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে তামিমের যুক্তি, ‘আমি একজন অভিনেতা হিসেবে চরিত্রটা ফুটিয়ে তোলার কাজটিই করার চেষ্টা করি। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি না দায়টা আমার একার। হ্যাঁ, আমাকে অনেক সোস্যাল মিডিয়ার বুলির শিকার হতে হয়েছে এ কারণে। একইসঙ্গে আমিও মনে করি, অনেকভাবেই নিজের গল্পটা তুলে ধরা যায়। সেটা নির্মাতার নিজস্বতা। তবে এর পরবর্তীতে আর এ ধরনের কোনো তর্কের মুখোমুখি হইনি।’
অভিনয়, গান এসবের পাশাপাশি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত নাম তামিম মৃধা। নিজের একটি স্টার্টআপ কোম্পানির মাধ্যমে পুরো ঢাকা শহরে মাঝরাত অর্থাত্ অফপিক আওয়ারে খাবার ও জরুরি সেবা দেওয়ার কাজ করে তার প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়েও স্বপ্ন দেখেন অনেকদূর। চলচ্চিত্রের দারুণ সম্ভাবনা দেখেন এ প্রজন্মের হাত ধরেই। তামিমের কথায়, ‘আমরা এ প্রজন্মের সকলেই কাজের ব্যাপারে খুব ডেডিকেটেড। শুধু মেধার সম্মিলনটা হলেই এদেশ শিল্প-সংস্কৃতিতে দারুণ এক সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।’
