হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
হোসেনপুরে এ বছর আউশ ধানের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে ২০ একর জমিতে প্রদর্শনী হিসেবে আউশ মৌসুমে ব্রি-৪৮ জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের ধান, গম ও পাটবীজ উত্পাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পে চরপুমদী ব্লকের রামপুর এলাকায় আউশ ধানবীজ উত্পাদন প্রদর্শনী হাতে নেয় হোসেনপুর উপজেলা সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মাঠ পর্যায়ে ধান ফসলের নমুনা শস্য কর্তন শুরু হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন চাষিরা। ব্রি-৪৮-এর বৈশিষ্ট্য হলো মাঝারি মোটা। উচ্চতা ১০৫ সেন্টিমিটার, জীবনকাল ১১০ দিন এবং গড় উত্পাদন হেক্টরপ্রতি সাড়ে ৫ মেট্রিক টন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও প্রদর্শনীর তত্ত্বাবধায়ক আলিমুল শাহান জানান, কম সময়ে অধিক ফলন এই ধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এ বছর আউশের উত্পাদন ভালো হওয়ায় আগামী বছর রামপুর এলাকায় ৭০ শতাংশ জমি আউশের আওতায় চলে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রামপুর গ্রামের কৃষক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আউশের চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি এবং মাড়াই অবস্থায় মণপ্রতি ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছি।’ আউশচাষি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পরামর্শ পেয়ে জমি পতিত না রেখে আউশ উত্পাদন করে বাম্পার ফলন পেয়েছি।’ উপজেলা কৃষি সম্প্রাসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুমা আক্তার জানান, ব্রি-৪৮ জাতের ধান উত্পাদনে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সার্বিক সহায়তা করা হয়েছে। বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষিদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরুল কায়েস বলেন, ‘আউশ ধানের উত্পাদন খরচ কম, লাভ বেশি। সময় কম লাগে, সেচ লাগে না, সার কম লাগে। এছাড়া কাটার পর পুনরায় একই জমিতে আমন ধান চাষ করা যায়। আশা করছি আগামীতে কৃষকেরা আরো বেশি আউশ ধান চাষ করবেন।’
