চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
চরভদ্রাসনে পদ্মার পানি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়ে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকায় পানি আরো বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব এলাকার প্রায় ৪ হাজার পরিবার। নষ্ট হচ্ছে ফসলের খেত ও কাঁচা-পাকা সড়ক। পানি উঠেছে সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
গাজীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী জানান, বন্যায় এই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া রমেশবালার ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতর পানি ঢুকে পড়েছে। হরিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমির হোসেন খান জানান, তার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ১ হাজার ১০০ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। তাছাড়া সাদারি বিশ্বাসের ডাঙ্গী ও গোলাপখার ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। এছাড়া পদ্মার ভাঙনের মুখে রয়েছে ছবুল্লা সিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পানিতে ডুবে কাঁচা-পাকা বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজাদ খান জানান, চলতি বর্ষায় এমপি ডাঙ্গী, ফাজেলখার ডাঙ্গী, হাজি ডাঙ্গী ও মাথাভাঙ্গা গ্রামে বেড়িবাঁধের ভেতর বাহির মিলে ৮০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি উঠেছে মোল্যা ডাঙ্গী ও ফাজেলখার ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ মণ্ডল জানান, বন্যায় কৃষকের বিভিন্ন জাতের ধান, কলাবাগান ও শাকসবজি খেত মিলে প্রায় ১০৫ হেক্টর জমির ফসলের খেত ডুবে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অ.দা.) মো. মাসুদুল আলম জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুসারে বন্যার্তদের সাহায্য সহযোগিতায় কাজ করছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে ২০০ বন্যা আক্রান্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গাজীরটেক ও হরিরামপুর ইউনিয়নে দুই টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আরো ১৬ টন চাল বরাদ্দ এসেছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলার চারটি ইউনিয়নে বণ্টন করা হবে। পর্যায়ক্রমে ত্রাণ তত্পরতা বাড়ানো হবে।
