কুমার নদের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে সড়ক

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৪

খোন্দকার আবদুল মতিন, টেকেরহাট

   (মাদারীপুর) সংবাদদাতা

অপরিকল্পিত এবং অবাধ বালু উত্তোলন, উজান থেকে নেমে আসা স্রোত ও ট্রলার চলাচলে ঢেউয়ের আঘাতে ব্যাপক ভাবে ভাঙছে কুমার নদ। রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট-কালীবাড়ী-কবিরাজপুর ফিডার সড়কের কিছু অংশ কুমার নদে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ভাঙন হুমকিতে রয়েছে মসজিদসহ ২০ বসতঘর।  রবিবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সড়কের ঐ অবস্থা দেখা গেছে। ভাঙন অব্যাহত আছে। যে কোনো মুহূর্তে সড়কের সম্পূর্ণ অংশ নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে টেকেরহাট সংলগ্ন শংকরদী গ্রামের মুন্সী পাড়ায় একটি জামে মসজিদসহ প্রায় ২০টি বসতঘর নদীভাঙনের মুখে পড়েছে। জানা গেছে, বিগত কয়েক বছরে এ এলাকা থেকে প্রায় ৩০টি পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গৃহহারা হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন তারা। সোমবার থেকে জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙন ঠেকাতে কাজ করে যাচ্ছে মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার টেকেরহাট-কালীবাড়ী ফিডার সড়কের গোয়ালবাথান উত্তরপাড়া নামক স্থানে প্রায় ১০০ মিটার পাকা সড়ক কুমার নদে বিলীন হওয়ার পথে। সড়কটির বেশির ভাগই নদে চলে গেছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে পুরো সড়কটি নদে বিলীন হয়ে যেতে পারে। বিদ্যানন্দী গ্রামের কৃষক আবদুল গনি মিয়া জানান, সড়কটি পুরো বিলীন হয়ে গেলে বিদ্যানন্দী মাঠের ৬ হাজার একর জমির ধান নদের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এছাড়া এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন টেকেরহাট বন্দরসহ উপজেলা সদরে নিলখী, কবিরাজপুর ও হরিদাসদী মহেন্দ্রী ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। টেকেরহাট সংলগ্ন শংকরদী গ্রামের মুন্সী পাড়ায় একটি জামে মসজিদ ও লাবলু মুন্সী, কেনাল মুন্সী, তানভীর মুন্সী, তৈয়ব মুন্সী, আসমত মুন্সী, লুত্ফর মুন্সী, রফিকুর মুন্সীর বসতঘরসহ প্রায় ২০টি বসতঘর ভাঙনের মুখে পড়েছে।

গোয়ালবাথান এলাকাবাসীর মধ্যে নারায়ণ হালদার, ফেরদাউস, মিরুল, শহর আলীসহ অনেকেই জানিয়েছেন, কুমার নদ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখনই ভাঙন প্রতিরোধ করা না হলে বিদ্যানন্দী মাঠের সব ফসলি জমি নদের পানিতে ডুবে যাবে। এতে আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা জানান, ভাঙন ঠেকাতে সোমবার থেকে কুমার নদের ঐ স্থানসহ কয়েকটি স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।