মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর
(টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
মির্জাপুরে উপজেলা সদরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম ময়লা-আবর্জনায় খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অযত্ন-অবহেলায় বছরের ৯ মাসই স্টেডিয়ামে কাদা পানিতে ডুবে থাকে। জলাবদ্ধতার কারণে কখনো কখনো এখানে চাষ হয় মাছের। সোমবার স্টেডিয়াম ঘুরে দেখা গেছে এর করুণ দশা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৭৯ সালের ২ এপ্রিল ঢাকা বিভাগীয় উন্নয়ন বোর্ডের অর্থে উপজেলা ক্রীড়া ভবন ও খেলার মাঠের ভিত্তিপ্রস্তর করা হয়। এরপর আর ভবন ও মাঠের কোনো উন্নয়ন হয়নি। ২০১৭ সালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মাঠটি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম ঘোষণা করে কিছু মাটি ফেলে উঁচু করা হয়। এদিকে স্টেডিয়ামটি উপজেলা শহর ও রাস্তা থেকে নিচু হওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। স্টেডিয়ামটি এক ভূতড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় আশপাশে বসে জুয়া ও মাদকের আড্ডা।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও কৃতী খেলোয়াড় মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, স্থানীয় এমপির সার্বিক সহযোগিতায় পূর্বের খেলার মাঠটি বর্তমানে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম করা হয়েছে। স্টেডিয়ামটি কিছু উন্নয়ন করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ফলে তরুণ ও যুব সমাজ নিয়মিত খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্বর হোসেন বলেন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ভবন এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম আমার অনেক আবেগ ও স্মৃতিজড়িত। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় স্টেডিয়ামের কিছু উন্নয়ন করা হয়েছে। স্টেডিয়ামটি খেলাধুলার উপযোগী করে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করা হচ্ছে বড় ধরনের প্রকল্প পেলেই দ্রুত উন্নয়ন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মাদক মুক্ত সমাজ গঠন এবং তরুণ ও যুব সমাজকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ করে তুলতে সুষ্ঠু পরিবেশে খেলার মাঠের কোনো বিকল্প নেই। আমি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম এবং ক্রীড়া সংস্থার ভবন পরিদর্শন করেছি। ভবনটি জরাজীর্ণ এবং স্টেডিয়ামটি খেলাধুলার অনুপযোগী। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের সার্বিক সহযোগিতায় স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া সংস্থা ভবনটির দ্রুত উন্নয়ন করা হবে।
