৯ বছরের শিশু অনিকা। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘুরছিল। সদরঘাটের শ্রমিকরা তাকে ঘিরে কথা বলছিল। সঙ্গে কেউ ছিল না। বিষয়টি নজরে আসে নৌপুলিশের। পুলিশ তার পরিচয় জানতে চাইলে নিজের নাম, বাবা-মা, দাদা-দাদি ও বোনদের নাম আর গ্রামের নাম বলতে পারে। ঢাকার বাসা কোথায় তা বলতে পারে না তবে রিকশায় যে পথে এসেছে সেই পথে চিনে সে ফিরে যেতে পারবে বলে জানায়। কিন্তু এতটুকু একটা মেয়েকে একা ছেড়ে দেওয়া যায়? নাহ! কোনো দায়িত্বশীল মানুষের পক্ষে সেটা সম্ভব না।
এমন পরিস্থিতিতে মেয়েটির পরিবারকে খুঁজে বের করতে সদরঘাট নৌথানার ওসি কাইউম আলী সরদার দায়িত্ব দেন নৌ থানার এসআই রেজাউল করিম ও নায়েক রবিউল বাসারকে। তারা মেয়েটিকে নিয়ে তার বাবা-মাকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়েন। পাশাপাশি কাইউম আলী টেলিফোনে যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, শ্যামপুর, গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, চকবাজার, লালবাগ, কেরানীগঞ্জ মডেল ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সরকারি নাম্বারের হোয়াটসঅ্যাপে মেয়েটির ছবি পাঠিয়ে তাদের ঘটনাটি জানান। সবাই চেষ্টা করেও মেয়েটির বাসার সন্ধান পাচ্ছিল না। খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে রাত ১২টার দিকে খুঁজে পাওয়া যায় মেয়েটির বাবা-মাকে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার রসুলপুরে পরিবারের সঙ্গে থাকে সে। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার হলদিবাড়িয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আলমগীর হাওলাদার। মা তানিয়া হাওলাদার। পরে পুলিশ সদস্যরা শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছে দেন।
