পদ্মা সেতু চালুর দিন ট্রেন চলবে কি না সংশয়ে রেলমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:১৬

রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বার বার বলে আসছিলেন, উদ্বোধনের দিনেই পদ্মা সেতুতে একসঙ্গে চলবে রেল এবং যানবাহন। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণে রেলের কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার পদ্মা সেতুর দুপাশে (মাওয়া ও জাজিরা) রেল লিঙ্ক পরির্দশনকালে তিনি সংবাদিকদের এ কথা বলেন। তবে তিনি বলেন, ‘আগামী ২০২২ সালের জুন মাসে পদ্মা নদীতে একই সঙ্গে সড়ক ও রেলসেতু চালুর লক্ষ্যেই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি। তবে সড়ক বিভাগের কাজ প্রাধান্য থাকায় তাদের ইউটিলিটি সার্ভিস তথা বিদ্যুত্ গ্যাস লাইন ও ওয়াকওয়ে  নির্মাণ করার পরই আমাদের রেললাইন নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে। তাদের এনওসি (ছাড়পত্র) পাওয়ার পরই আমরা রেললাইনের কাজ শুরু করব।’

রেলপথমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর রেললাইনের কাজ শেষ করতে সময় লাগবে মোট ছয় মাসের মতো। বর্তমানে সড়ক বিভাগের সঙ্গে কম সময়ে ইউটিলিটি সার্ভিসের কাজ যেন শেষ করতে পারে—সেজন্য সমঝোতা চলছে। সেতু বিভাগ ২০২২ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই সকল কাজ শেষ করতে পারবে বলে মত দিয়েছে। তবে ইউটিলিটি সার্ভিসের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যেই যেন করা যায় সেজন্য সড়ক বিভাগের সঙ্গে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা চলছে। নির্দিষ্ট সময় অর্থাত্ ডিসেম্বরে ইউটিলিটি সার্ভিসের কাজ শেষ করতে না পারলে জুন মাসে একই দিনে পদ্মা নদীতে রেললাইন উদ্বোধন করা হয়তো সম্ভব হবে না।

রেলপথ মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি সেতু কর্তৃপক্ষকে রাজি করাতে। যেন দুটি কাজ এক সঙ্গেই শেষ করা যায়।’ সড়ক পথ চালু হয়ে গেলে রেলপথ নির্মাণ করা আরো কষ্টকর হবে বলেও জানান রেলপথ মন্ত্রী। কেননা, সেতুতে যান চলাচল শুরু করলে যে ভাইব্রেশন বা কম্পন হবে তাতে রেলপথের ঢালাইয়ে জটিলতা হবে। সেই ক্ষেত্রে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনক্ষণ পেছাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘রেলপথের জন্য মূল সেতুর উদ্বোধন পেছাক সেটা চাই না। তবে একসঙ্গে কাজ শেষ করতে না পারলে, রেলপথ নির্মাণে সমস্যা হবে।’

রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, সেক্ষেত্রে আমরা বিজয় দিবসকে সামনে রেখে ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর পদ্মায় রেলসেতু উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে। রেলসেতু নির্মাণে কোনো প্রকার অর্থ সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু চীনের ঋণসহায়তার মাধ্যমে আমরা রেলসেতু তৈরি করছি তাই কোনো প্রকার অর্থ সংকট আপাতত নেই।

তিনি বলেন, ‘এখন ঢাকা থেকে মাওয়া ও অপরদিকে ভাঙ্গা থেকে মাওয়া পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের কাজ জোরেশোরে চলছে যাতে একসঙ্গে দুই অংশের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা যায়। তবে আমাদের প্রথম পর্বে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত রেললাইন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকা-যশোর রেললাইন নির্মাণ কাজ শেষ করে চালু করা সম্ভব হবে।’

ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার মূল রেললাইন, তিন কিলোমিটার ডাবল রেললাইন ও ৪৩ কিলোমিটার লুপ লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ সহজ করতে পদ্মা নদীর ওপর প্রথমে কেবল সড়কসেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলেও পরে তাতে রেল যুক্ত হয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে। গত ১০ ডিসেম্বর সবকয়টি স্প্যান বসে যাওয়ার পর সড়কসেতুতে ব্লক ও রেলসেতুতে লাইন বসানোর কাজ শুরু হয়।

এরই মধ্যে সব ব্লক বসে গেছে। চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ। আগামী জুনের মধ্যে সেতু চালুর ঘোষণা আছে সরকারের।

রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে রেল অবকাঠামোর কাজ পুরোদমেই এগিয়ে চলছে। মাওয়া প্রান্তে রেল সংযোগ সেতুতে চলছে রেল। রেলমন্ত্রী নিজেই পরীক্ষামূলকভাবে চলা রেলে (গ্যাংকার) চড়ে সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

ঢাকা থেকে যশোর ১৭২ কিলোমিটার রেল লিংক প্রকল্পের এ পর্যন্ত রেলপথের ৪৩ দশমিক ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেলপথে ২০টি স্টেশন থাকবে, যার মধ্যে ১৪টি নতুন এবং ছয়টি বিদ্যমান। ৩০ জুন ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেলপথ চালু হবে। আর আগামী বছর ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথ চালু হবে বলেও জানানো হয়।

এ সময় রেলপথ মন্ত্রীর সঙ্গে রেলসচিব সেলিম রেজা, রেলওয়ে মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প পরিচালক মো. আফজাল হোসেন, মুন্সীগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান, লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল, পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন